ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে গৃহবধূ হত্যা মামলায় ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীকে হত্যার পর বস্তাবন্দি মরদেহ পুকুরে পাথর চাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১টা ৫ মিনিটে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সুশীল দাশ (৩০) ওই এলাকার কুড়ের পাড়ের বাসিন্দা। তিনি মৃত মহরলাল দাশের ছেলে।
অভিযানটি পরিচালনা করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯), সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং জেলা পুলিশের যৌথ দল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে সুশীল দাশের সঙ্গে রত্না রানী দাশের (২৬) বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে সুশীল স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
ঘটনার প্রায় এক মাস আগে তিনি স্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আর সংসার করবেন না। বাড়ি ছেড়ে চলে যেতেও বলেন। কিন্তু সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব নির্যাতন সহ্য করে রত্না স্বামীর বাড়িতেই থেকে যান।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ অক্টোবর রাতে মেয়েকে নিয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন রত্না। পরদিন সকালে তাঁকে ঘরে না পেয়ে সুশীল দাশ শ্বশুরবাড়িতে খবর দেন এবং নাসিরনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এদিকে পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাচ্ছিলেন না।
অবশেষে গত ২১ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে, সুশীল দাশের বাড়ির দক্ষিণ পাশের পুকুরে একটি বস্তা ভাসছে। খবর পেয়ে রত্নার ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তা খুলে বোনের মরদেহ শনাক্ত করেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ দেখতে পায়, রত্নার দুই হাত রশি ও কাপড় দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। মরদেহটি বস্তায় ভরে তার সঙ্গে বড় পাথর বেঁধে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে কেউ খুঁজে না পায়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শ্রীনিবাস দাস বাদী হয়ে সুশীল দাশকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ২১, তারিখ ২২ অক্টোবর ২০২৬। ধারা দণ্ডবিধি ৩০২/২০১/৩৪।
মামলা রুজুর পরপরই এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
kalprakash.com/IM