জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে টিকাদানের আওতা বাড়াতে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদানের বিষয়টি বিবেচনা করতে দেশগুলোকে সুপারিশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) টিকা বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা গোষ্ঠীর (সেজ) চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট এ সুপারিশ করেন।
অ্যান্থনি স্কট বলেন, বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশে ইতিমধ্যে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী এই টিকা গ্রহণের হার মাত্র ৩৩ শতাংশ, যা সংস্থাটির নির্ধারিত ৯০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম।
তিনি বলেন, টিকাদানের হার ও আওতা বাড়াতে সহায়ক হলে দেশগুলো ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকাদানের বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।
ডব্লিউএইচওর বর্তমান সুপারিশ অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি টিকাদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। ২০২২ সালে সেজ এ বয়সী মেয়েদের এক বা দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। একই বয়সভিত্তিক সূচি ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। অন্যদিকে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
তবে হালনাগাদ গবেষণার প্রমাণ পর্যালোচনা করে সেজ জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক ডোজ টিকা দেওয়ার পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর।
কারা পাবেন এইচপিভি টিকা?
টিকাদানের আওতা বাড়াতে সেজ কয়েকটি জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়া। এরপর এ সুযোগ ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের মধ্যে সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং সর্বশেষ ২০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের বাদ পড়া টিকা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠীটি।
ডব্লিউএইচওর টিকা বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচপিভির আটটি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এইচপিভি ভাইরাস থেকে হয় জরায়ুমুখ ক্যানসার
হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের কারণে জরায়ুমুখ ক্যানসার হতে পারে। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী নারীদের মধ্যে পঞ্চম সর্বাধিক শনাক্ত হওয়া ক্যানসার ছিল এটি। ওই বছর প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার নারী নতুন করে এ ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার নারী মারা যান।
সংস্থাটি জানায়, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখ ক্যানসার। এসব দেশের অধিকাংশই সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, মেলানেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে অবস্থিত।
তবে বিশ্বব্যাপী টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের এক ডোজই সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করছে সেজ। সূত্র: এএফপি।
kalprakash.com/IM