পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হস্তক্ষেপ চেয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সমীরুল ইসলাম।
চিঠিতে কলোনির বাসিন্দাদের দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের মানবাধিকারপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সমীরুল ইসলামের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর জ্যোতি নগর কলোনিতে পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কলোনির বাসিন্দারা মুসলিম হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ, সেখানকার বাসিন্দারা মুসলিম এবং তাঁদের বিজেপির তথাকথিত ভোটব্যাংকের অংশ বলে মনে করা হয় না।
চিঠিতে সমীরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, পানীয় জলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি কেবল নাগরিক পরিষেবার সংকট নয়, বরং মানবাধিকারসংক্রান্ত বিষয়। তাঁর মতে, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং স্যানিটেশনের সুযোগ জাতিসংঘ স্বীকৃত মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এ পরিস্থিতি কলোনির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও উপযুক্ত জীবনযাপনের অধিকারকে প্রভাবিত করছে।
চিঠিতে তিনি বলেন, বাসিন্দারা কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা বা বাড়তি সুবিধা চাননি। তাঁরা এমন একটি জিনিসের অধিকার চাইছেন, যা তাঁদের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।
সমীরুল ইসলাম আরও সতর্ক করে বলেন, পানীয় জলের অভাবে ব্যাপকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র ও সমাজের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহে ব্যর্থতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়ারও আবেদন করেছেন।
উল্লেখ্য, জ্যোতি নগর কলোনিতে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ এবং এর পেছনে ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগগুলো সমীরুল ইসলামের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
সূত্র: আউটলুক
kalprakash.com/IM