মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ২২ দিন নদীতে জাল না ফেলার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সঙ্গে জেলেদের পাশাপাশি প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সমাজের সব স্তরের মানুষকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদী-সংলগ্ন মাদবরচর ইউনিয়নের কাওরাকান্দি এলাকার চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে সচেতনতা সভা ও জেলে পরিবারের মধ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এ সময় পদ্মা নদীর ১৫১টি জেলে পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দীন আহম্মেদ হানজালা এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার ফজলে এলাহী, শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান, বিএনপি নেত্রী নাদিরা আক্তার, শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান, সদস্যসচিব সোহেল রানা, সদস্য আবু জাফর চৌধুরী ও উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম টিপুসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ইলিশের বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘একটি ছোট ইলিশ যদি ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়, তা থেকে প্রায় দুই লাখ ইলিশ মাছ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর বড় ইলিশ থেকে ২০ লাখেরও বেশি ডিম পাওয়া সম্ভব।’
জেলেদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে অভিযানের এই ২২ দিন জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এই ২২ দিন একটু কষ্ট হলেও পরবর্তীতে নদীর ইলিশ মাছ আপনাদেরই, আপনারাই ধরবেন। তাই জেলে সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ থাকবে, আপনারা কেউ এই সময়ে নদীতে জাল ফেলবেন না।’
তিনি আরও বলেন, দেশকে একটি সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
kalprakash.com/IM