বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬ | ২১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | সকাল ৬:৫০:১৫
শিরোনাম
● দাম্পত্য জীবন সুন্দর করতে ● ষড়যন্ত্র নিজের দিকেই ফিরে আসে ● উরুগুয়ের গোলবন্যায় ভেসে গেল ভারত ● সিইসির পদত্যাগের দাবিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক ● জাল টাকার বান্ডিলে সোনার চেইন নিয়ে চম্পট ● স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর ● শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বান্দরবানে ● এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি বুধবার ● বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া ● টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ফিচারে আসছে চমক ● দাম্পত্য জীবন সুন্দর করতে ● ষড়যন্ত্র নিজের দিকেই ফিরে আসে ● উরুগুয়ের গোলবন্যায় ভেসে গেল ভারত ● সিইসির পদত্যাগের দাবিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক ● জাল টাকার বান্ডিলে সোনার চেইন নিয়ে চম্পট ● স্কুল থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর ● শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন বান্দরবানে ● এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি বুধবার ● বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস, আগামী ৫ দিন যেমন থাকবে আবহাওয়া ● টিকটক ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুখবর, নতুন ফিচারে আসছে চমক

দাম্পত্য জীবন সুন্দর করতে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪
শেয়ার: mail
দাম্পত্য জীবন সুন্দর করতে

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেবল সামাজিক চুক্তি নয়; এটি ভালোবাসা, দায়িত্ব, সহযোগিতা ও আল্লাহভীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি পবিত্র বন্ধন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো; আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম, আয়াত : ২১)

দাম্পত্য জীবন সুন্দর করতে স্বামীর মধ্যে যেমন কিছু গুণ থাকা প্রয়োজন, তেমনি স্ত্রীর মধ্যেও কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে স্বামী ও স্ত্রীর বিশেষ পাঁচটি গুণ ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো।

যেমন হবে স্বামীর আচরণ

১. দায়িত্বশীল হওয়া:
আল্লাহ পারিবারিক জীবনে স্বামীকে দায়িত্বশীল করেছেন। সুতরাং স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের প্রতি তার আচরণ হবে দায়িত্বশীল। আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষরা নারীদের দায়িত্বশীল। কেননা আল্লাহ তাদের একজনকে অপরজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৪)

২. সদাচারী ও কোমল হওয়া:
স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা স্বামীর অন্যতম বড় দায়িত্ব। এ বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ হলো, ‘তোমরা তাদের সঙ্গে সৎভাবে জীবনযাপন করো।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৩৮৯৫)

৩. ধৈর্যশীল হওয়া:
স্ত্রীর কোনো অপছন্দনীয় আচরণ দেখেই তার প্রতি রূঢ় হওয়া কিংবা তাকে ঘৃণা ও অবজ্ঞা করা উচিত নয়। বরং ধৈর্যের সঙ্গে তাকে সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের সঙ্গে সৎভাবে জীবনযাপন করবে; তোমরা যদি তাদেরকে অপছন্দ করো তবে এমন হতে পারে যে, আল্লাহ তাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন, তোমরা তাকেই অপছন্দ করছ।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৯)

৪. বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া:
স্ত্রীর জীবন ও সম্ভ্রমের প্রতি বিশ্বস্ত থাকা এবং স্ত্রীর প্রতি ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা স্বামীর দায়িত্ব। রাগ, সন্দেহ, অপমান বা অন্যায় আচরণ দিয়ে সংসার পরিচালনা করা ইসলামের আদর্শ নয়। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন আমানত তার হকদারকে প্রত্যর্পণ করতে। তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে বিচার করবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৫৮)

৫. ভালোবাসা ও স্নেহ প্রকাশ করা:
সংসারের প্রয়োজন পূরণ করাই যথেষ্ট নয়; স্ত্রীকে ভালোবাসা, সময় দেওয়া এবং তার অনুভূতির মূল্যায়ন করাও জরুরি। আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ভালোবেসে কখনো কখনো আমার নাম হুমায়রা বা লাল গোলাপ বলে ডাকতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪)

যেমন হবে স্ত্রীর আচরণ

১. যত্নশীল হওয়া:
স্ত্রী স্বামীর সুখ-শান্তি, সন্তানদের লালন-পালন এবং পরিবারের পরিবেশ সুন্দর রাখার ব্যাপারে যত্নশীল হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আর নারী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল এবং সে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫৫৪)

২. স্বামীর প্রতি সম্মান ও আনুগত্য:
ইসলাম স্ত্রীকে স্বামীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও বৈধ কাজে তার আনুগত্য প্রকাশ করতে বলেছে। হাদিসে এসেছে, ‘আমি যদি কোনো মানুষকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম, তবে স্ত্রীদের আদেশ দিতাম তাদের স্বামীদের সিজদা করতে। কেননা আল্লাহ স্ত্রীদের ওপর স্বামীদের অধিকার দিয়েছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২১৪০)

হাদিস বিশারদরা বলেন, এখানে স্বামীর মর্যাদা ও আনুগত্যের অধিকার বোঝানো উদ্দেশ্য।

৩. বিশ্বস্ততা রক্ষা করা:
স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী নিজের সম্ভ্রম, স্বামীর সম্পদ, সন্তান ও পরিবারকে রক্ষা করবে। আল্লাহ বলেন, ‘সৎ নারীরা অনুগত এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে আল্লাহ যা সংরক্ষণ করতে বলেছেন তা সংরক্ষণ করে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৪)

৪. ধৈর্যশীল ও ক্ষমাশীল হওয়া:
সংসারে মতপার্থক্য হওয়া স্বাভাবিক। তাই সামান্য ভুলকে বড় করে না দেখে ধৈর্য, ক্ষমা ও সুন্দর কথার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। বিশেষত ধৈর্য ও অল্পে তুষ্টি মুমিন নারীর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এক নারী তার ব্যক্তিগত একটি অসুবিধার কথা জানিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে দোয়া চাইলে তিনি বলেন, ‘তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, বিনিময়ে জান্নাত পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৬৫২)

৫. ভালোবাসাপূর্ণ ও প্রফুল্ল হওয়া:
স্ত্রীর হাসিমুখ, আন্তরিকতা ও স্নেহ পরিবারের পরিবেশকে প্রশান্ত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন আল্লাহভীতির পর উত্তম যা লাভ করে তা হলো পুণ্যময়ী স্ত্রী। স্বামী তাকে কোনো নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে; সে তার দিকে তাকালে (তার হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও প্রফুল্লতা) তাকে আনন্দিত করে এবং সে তাকে শপথ করে কিছু বললে সে তা পূর্ণ করে। আর স্বামীর অনুপস্থিতিতে সে তার সম্ভ্রম ও সম্পদের সংরক্ষণ করে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৮৫৭)

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

দাম্পত্য জীবন সুন্দর করতে

বিস্তারিত কমেন্টে