সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শনিবার হুথিদের কথিত হামলার পর ধোঁয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাই-না-করা ভিডিওতে সৌদি আরামকোর রিয়াদ শোধনাগারের ভেতরে আগুন দেখা যাওয়ার দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে স্যাটেলাইটের অগ্নি শনাক্তকরণ তথ্যেও ওই এলাকায় অস্বাভাবিক তাপীয় কার্যকলাপ ধরা পড়েছে।
নাসার ফার্মস স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় শোধনাগারজুড়ে তুলনামূলক বেশি তীব্রতার ভিয়ার্স (VIIRS) তাপীয় সংকেত শনাক্ত হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতেও রিয়াদের ওপর ঘন ধোঁয়া দেখা গেছে।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকো এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং হুথিরাও হামলার দায় স্বীকার করেনি। নাসার টেরা (Terra) স্যাটেলাইটের উন্মুক্ত ছবিতে শোধনাগারে বড় ধরনের আগুন এবং সম্ভবত জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস পোড়ানোর (ইমার্জেন্সি ফ্লেয়ারিং) চিত্র দেখা গেছে; ঘন ধোঁয়া রিয়াদের উত্তর দিকে সরে যেতে দেখা যায়। আগুনের প্রকৃত কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
গত মাসেও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্রে আগুন ও বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গিয়েছিল। পরে হুথিরা দাবি করে, তারা সৌদি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আরামকো স্থাপনায় কয়েক মাসের হুথি হামলা
জুলাই মাসে আরামকোর জাজান শোধনাগারে আগুন লাগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিবেদন ও স্যাটেলাইট অগ্নি শনাক্তকরণ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
আগস্টে হুথিরা আবারও জাজান শোধনাগারে হামলা চালায়। সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করার দুই দিন পর এ হামলা হয়। জাজান শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
জুলাই মাসে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের দাবি ছিল, সৌদি আরব তাদের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে, যা রিয়াদ অস্বীকার করেছে।
সেপ্টেম্বরে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন এবং দক্ষিণ সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি তেল স্থাপনা ও ইউটিলিটি অবকাঠামোতে আগুন ধরে যায়। সেই মাসে ইয়ানবু শোধনাগারেও একটি আগুনের ঘটনা ঘটে, যদিও এর কারণ স্পষ্ট হয়নি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ ক্রমেই বেড়েছে।
ইরানের হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন দিয়ে যে সংকট শুরু হয়েছিল, তা ক্রমে লোহিত সাগরেও ছড়িয়ে পড়ে। জুলাইয়ে ইরান-সমর্থিত হুথিরা রিয়াদের বিরুদ্ধে আবারও একটি নতুন ফ্রন্ট খুলে দেয়। এর আগে ২০২২ সাল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের সংঘাত অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, কিন্তু পরে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।
সূত্র: টার্কি টু ডে
kalprakash.com/IM