সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২২ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | দুপুর ১২:২৯:৩৯
শিরোনাম
● জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের কমিটি ঘোষণা, উপদেষ্টা এনসিপির ৫ নেতা ● কুবি রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু ● শিবচরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত ● ফের চালু জুনিয়র বৃত্তি, নীতিমালায় যা আছে ● নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হবে না: সিইসি ● শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু জীবিকা নয়, ভালো মানুষ হওয়া: মন্ত্রী রবিউল ● রাশিয়ায় প্লেগে গবেষকের মৃত্যু, শতাধিক কোয়ারেন্টাইনে, ৫ হাসপাতাল বন্ধ ● হুমকির মুখে ব্রিটেন থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র ● দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ ● ‘দেশের সব নাগরিকের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’ ● জুলাই ওয়ারিয়র্স এলায়েন্সের কমিটি ঘোষণা, উপদেষ্টা এনসিপির ৫ নেতা ● কুবি রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী শিল্প উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু ● শিবচরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত ● ফের চালু জুনিয়র বৃত্তি, নীতিমালায় যা আছে ● নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হবে না: সিইসি ● শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু জীবিকা নয়, ভালো মানুষ হওয়া: মন্ত্রী রবিউল ● রাশিয়ায় প্লেগে গবেষকের মৃত্যু, শতাধিক কোয়ারেন্টাইনে, ৫ হাসপাতাল বন্ধ ● হুমকির মুখে ব্রিটেন থেকে সব বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র ● দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ ● ‘দেশের সব নাগরিকের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার’

শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসছে

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আলোচিত নারী মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৬
শেয়ার: mail
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আলোচিত নারী মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার

ইতালিতে ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর থানা-পুলিশের একটি দল সিলেটের শাহপরাণ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই নারী ও তাঁর ভাইকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়ের করা অন্তত চারটি মামলার দীর্ঘদিন ধরে পলাতক আসামি ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জগন্নাথপুর উপজেলার ইছাকপুর গ্রামের বাসিন্দা মোছা. শোবি বেগম (৩০) ও তাঁর ভাই শামছুল (২৮)। জগন্নাথপুর থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচারের মামলা থাকার পর থেকে তাঁরা আত্মগোপনে ছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, চক্রটির পলাতক সদস্যরা সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানা এলাকায় আত্মগোপন করে আছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান, এসআই মোস্তাফিজুর রহমান, এসআই অনিক পাল ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আলাউদ্দিনসহ পুলিশের একটি দল শাহপরাণ থানা-পুলিশের সহায়তায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।

এদিকে চক্রটির মূলহোতাদের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দীর্ঘদিন আতঙ্কে মুখ না খোলা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো একে একে সামনে আসতে শুরু করেছে। তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া প্রতারণা, শারীরিক নির্যাতন ও সর্বস্ব হারানোর বিবরণ উঠে আসছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটি মূলত তিন দেশ থেকে পরিচালিত একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট। শোবি বেগমের স্বামী মেশকার মিয়া ইতালিতে প্রবাসে আছেন। প্রবাসে থাকা তাঁর দুই ভাইয়ের একজন ইতালিতে ও অপরজন লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ইতালিতে থাকা স্বামী মেশকার মিয়া ও ইতালিপ্রবাসী ভাইয়ের পাশাপাশি লিবিয়ায় থাকা অপর ভাই এই সিন্ডিকেটের মূল নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করেন। আর বাংলাদেশে অবস্থানরত শোবি বেগম ও তাঁর ভাই শামছুল স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামের বেকার যুবকদের সরাসরি ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে কোটি কোটি টাকা আদায় করতেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দেশে টাকা নেওয়ার পর শুরু হতো চক্রটির আসল খেলা। ইতালিতে সরাসরি পাঠানোর কথা বলে ভুক্তভোগীদের প্রথমে বিমান কিংবা বিকল্প পথে উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় পাঠানো হতো। সেখানে পৌঁছানোর পর শোবি বেগমের ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা মাফিয়া চক্রের সদস্যরা বিমানবন্দরে নেমেই তাঁদের অপহরণ করত। এরপর তাঁদের মরুভূমির ভেতরের টর্চার সেল, গুমঘর বা গোপন মাফিয়া ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে সশস্ত্র পাহারায় আটকে রেখে দিনের পর দিন খাবার ও পানি না দিয়ে কষ্ট দেওয়া হতো। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে ফেলা, গায়ে ও পিঠে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিদিন নির্যাতনের সময় ভুক্তভোগীদের আর্তচিৎকার ও কান্না মোবাইল ফোনে অডিও ও ভিডিও আকারে রেকর্ড করা হতো। পরে সেই ফুটেজ বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হতো। সন্তানদের বিদেশে আটকে রেখে মারধর ও মেরে ফেলার ভয় দেখালে ভিটেমাটি, শেষ সম্বল কিংবা বসতবাড়ি বিক্রি করে এবং চড়া সুদে ঋণ নিয়ে স্বজনেরা প্রবাসে থাকা চক্রের কাছে ও দেশে শোবি বেগমের হাতে কোটি কোটি টাকার মুক্তিপণ তুলে দিতে বাধ্য হতেন।

কলকলিয়া ইউনিয়নের সাদীপুর গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী সইফুল মিয়া বলেন, চক্রটি তাঁকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে। সরাসরি ইতালি পাঠানোর কথা বলে শোবি বেগম ও তাঁর ভাইয়ের সিন্ডিকেট বিভিন্ন দফায় তাঁর কাছ থেকে নগদ ২৬ লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু বিদেশে পাঠানোর পর তাঁকে লিবিয়ার মাফিয়া ক্যাম্পে বন্দি রেখে আরও বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় এবং নির্যাতন চালানো হয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা আরেক ভুক্তভোগী আবু তাহের মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলে বিন আমিনকে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চক্রটি তাঁদের কাছ থেকে নগদ ২৫ লাখ টাকা নিয়েছে। পরে তাঁকে লিবিয়ায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

একই ইউনিয়নের সাদীপুর গ্রামের জহুর আলীর ছেলে সেলিমও এ চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন। তিনি জানান, ইউরোপে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চক্রটি তাঁকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে মোট ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। টাকা নেওয়ার পর তাঁকে লিবিয়ার মাফিয়া ক্যাম্পে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।

এ ছাড়া এলাক মিয়ার মেয়ের জামাই এমরান হোসেন আদিলও একই চক্রের শিকার হয়েছেন। ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকেও বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে লিবিয়ার মাফিয়া ক্যাম্পে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। এ চক্রের প্রতারণায় সুনামগঞ্জের অসংখ্য পরিবার শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করলেও ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গ্রেপ্তার শোবি বেগম ও শামছুলকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিতে হবে। রিমান্ডের মাধ্যমেই এ চক্রের পেছনে থাকা দেশের ভেতরের ও বাইরের সব মূলহোতার নাম উন্মোচিত হবে বলে তাঁরা মনে করেন। একই সঙ্গে লিবিয়ার বিভিন্ন টর্চার সেল ও মাফিয়া ক্যাম্পে এখনো যেসব যুবক বন্দি আছেন, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে সরকারি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগে জীবিত উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন স্বজনেরা। এ ছাড়া নিঃস্ব হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো যাতে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত পায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের আইনগত হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসআই নূর হোসেন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ ও মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি আরও বলেন, মানবপাচারের মতো অপরাধ ও আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। লিবিয়া ও ইতালিতে অবস্থানরত চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে আলোচিত নারী মানবপাচারকারী গ্রেপ্তার

বিস্তারিত কমেন্টে