পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র নাফিউল করিম সোহানের (২৩) মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার একটি মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করে স্বজনদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় ভুক্তভোগীদের পক্ষে বক্তব্য দেন নিহত নাফিউলের চাচা ও হত্যা মামলার আসামি নজরুল ইসলাম চাঁদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মাহতাব আলী প্রমুখ।
নিহত নাফিউলের চাচা নজরুল ইসলাম চাঁদ বলেন, ২০২৪ সালের ৮ জুন রাতে নিজের বাড়িতে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে ভাতিজা নাফিউল। পরদিন ৯ জুন সকালে তার বাবা-মায়ের চিৎকারে স্বজন ও প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন নাফিউল অচেতন অবস্থায় ঘরে পড়ে আছে। দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মায়ের অনুরোধে নাফিউলকে পাবনা এসোর্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় নাফিউলের বাবা-মা দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। এরপর লাশ বাড়ি এনে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে দাফন করা হয়। তখন নাফিউলের বাবা-মা কোনো অভিযোগ করেননি এবং পুলিশও কয়েক দফা তদন্ত করেছে বলে জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম চাঁদ আরও বলেন, নাফিউল মারা যাওয়ার ছয় মাস পর তার মা আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে তাদের হয়রানিমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে। কেন, কী উদ্দেশ্যে ও কার প্ররোচনায় তাদের আসামি করা হলো, তা তারা আজও জানতে পারেননি বলে দাবি করেন। তার ভাষ্যে, তাদের সঙ্গে কোনো পক্ষের কখনো দ্বন্দ্ব হয়নি, তারপরও মিথ্যা মামলায় আত্মসমর্পণ করে তাকে ৪৫ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন। তিনি বলেন, নাফিউলের মৃত্যু হৃদরোগ বা স্ট্রোকে হয়েছে বলে অনেকে ধারণা করেন, তবু তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি নাফিউলের ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানান এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তার প্রতিবাদ জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান, জাকিরুল ইসলাম, রেজাউল করিম, আজগার সরকার, জাহিদুল ইসলাম, হাসান আলী, জাহাঙ্গীর আলী, লিটন হোসেন, নাজমুল সরকার, মালেক প্রামানিক, আব্দুল জলিল, শাহ আলম প্রমুখ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামের রেজাউল করিম-নাসিমা আক্তার দম্পতির সন্তান নাফিউল করিম সোহান (২৩) গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত বছরের ৫ জুন তিনি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন এবং ৯ জুন সকালে তার বাবা-মা ছেলের মরদেহ দেখতে পান।
তাদের অভিযোগ, বাড়ির সামনের জমি কেনাকে কেন্দ্র করে নাফিউলের চাচা ইব্রাহিম হোসেন ও নজরুল ইসলাম এবং চাচাতো ভাইদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে গত ২৪ এপ্রিল জমির মাটি কাটা নিয়ে ঝগড়া হয় এবং নাফিউলকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। নাফিউলের বাবা-মায়ের অভিযোগ, ৮ জুন রাতে তাকে চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন।
ছেলে হারানোর পর নাফিউলের মা নাসিমা আক্তার বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে পাবনার আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্তের স্বার্থে আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি নাফিউলের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুলিশ।
kalprakash.com/IM