দেশজুড়ে দ্বিতীয় দফার বিশেষ হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর)। চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা শিশুদেরও এ বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হবে। এবার ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহযোগিতায় গত এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত প্রথম দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ওই পর্যায়ে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও লক্ষ্যমাত্রার ১০২ থেকে ১০৪ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ কর্মসূচিতে দেখা যায়, প্রায় ৪৩ লাখ শিশু হামের টিকার আওতার বাইরে রয়েছে। পরে মপ-আপ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে আরও ১৯ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।
নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরও ১০ লাখ শিশু
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এখনও প্রায় ২৪ লাখ শিশু হামের টিকার বাইরে রয়েছে। এর সঙ্গে গত তিন মাসে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা আরও প্রায় ১০ লাখ শিশু যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের দ্বিতীয় দফার ক্যাম্পেইনে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর ইউনিসেফের কাছ থেকে আরও ৪৩ লাখ ডোজ হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আগে মজুত থাকা ১৫ লাখ ডোজসহ বর্তমানে সরকারের হাতে রয়েছে মোট ৫৮ লাখ ডোজ টিকা।
টিকাদানে ১০ শতাংশ ওয়েস্টেজ বা অপচয় ধরলেও প্রায় ৫২ লাখ ডোজ ব্যবহারযোগ্য থাকবে। ফলে নির্ধারিত ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরও পর্যাপ্ত টিকা অবশিষ্ট থাকবে বলে জানান তিনি।
ক্যাম্পেইন শেষে চলবে মপ-আপ কার্যক্রম
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৩১ অক্টোবর বিশেষ ক্যাম্পেইন শেষ হলেও নতুন করে ছয় মাস বয়স পূর্ণ করা শিশুদের টিকাদানের জন্য মপ-আপ কার্যক্রম চালু রাখা হবে। এর মাধ্যমে টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের শনাক্ত করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট, পরিচালক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
অতিরিক্ত ডোজ নিশ্চিত করার আহ্বান
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. হালিমা বলেন, শরীরে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরিতে হাম-রুবেলার (এমআর) টিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিভাবকদের সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী ৯ ও ১৫ মাস বয়সে নির্ধারিত দুই ডোজের পাশাপাশি বিশেষ ক্যাম্পেইনে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ডোজও নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে নির্ধারিত বয়সে শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনা এবং কোনো শিশু বাদ পড়ে গেলে পরবর্তী মপ-আপ কার্যক্রমে তাকে টিকা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।