পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের অবৈধ সব ইটভাটার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ইটভাটার মধ্যে আনুমানিক ১৭০০টি বৈধ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বার্ষিক উপকূলীয় শিশু জলবায়ু সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জলবায়ু সহনশীলতার জন্য শিশু নেতৃত্ব প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশের ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল (উপরিভাগের মাটি) রক্ষা এবং বায়ুদূষণ কমাতে সরকার ধাপে ধাপে মাটি পোড়ানো ইটের ব্যবহার বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট তৈরির দিকে এগোচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারের রাস্তাঘাট ও উন্নয়ন প্রকল্পে ইট ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে খাল খনন কর্মসূচির মাটি ইটভাটায় ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষিজমি রক্ষার স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে প্রকৃতিকে বাঁচাতে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করতে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব নিতে হবে। পাশাপাশি বাজার ও দৈনন্দিন কাজে পাট ও সুতার ব্যাগের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস) ও উপকূলীয় জলবায়ু শিশু ফোরাম (কেএনএইচ) এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেবল মঞ্চে বা খাতায় উপস্থাপনা নয়, বরং নিজের পরিবার ও এলাকায় পরিবেশবান্ধব শিক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। উপকূলের সুরক্ষায় নদী রক্ষা, সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং দূষণ কমানোর ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বলে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
kalprakash.com/IM