রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতার খেলা শেষে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইতিহাস বিভাগের ফুটবল দলের গোলরক্ষক আবু সুয়াইব মোহাম্মদ জিমসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে ইতিহাস বিভাগ ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলা শেষে কটাক্ষ ও স্লেজিংকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত আবু সুয়াইব মোহাম্মদ জিম ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ফুটবল দলের গোলরক্ষক।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে বিকেল ৩টায় ইতিহাস ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলা শুরু হয়। নির্ধারিত সময় শেষে ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জয় পেলে দুই বিভাগের দর্শকদের মধ্যে স্লেজিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও দুই বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আহমেদ সানাউল্লাহ রাফসান বলেন, পুরো ম্যাচজুড়েই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের খেলোয়াড়রা গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক আচরণ করছিলেন। ম্যাচ জয়ের পর তারা স্বাভাবিকভাবে উদযাপন করছিলেন। তখন ওই বিভাগের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক তাদের এক খেলোয়াড়কে আক্রমণ করেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে যায়। একপর্যায়ে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর হাতে থাকা ইটের আঘাতে ইতিহাস বিভাগের ডিফেন্ডার জিমের মাথা ফেটে যায়। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেলে নেওয়া হয়। তাদের পক্ষ থেকে কোনো ইট ছোড়া হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, বিষয়টি মাঠের ভেতরেই সুষ্ঠুভাবে সমাধান এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান জামান বলেন, ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউট হয়। তখন গ্যালারি থেকে স্লেজিং চলছিল। ইতিহাস বিভাগ পেনাল্টিতে জয়ের পর গ্যালারি থেকে তাদের গোলরক্ষককে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। গোলরক্ষক বিষয়টি দেখালে ইতিহাস বিভাগের কয়েকজন খেলোয়াড় তার দিকে তেড়ে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। এতে তাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ও আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, গ্যালারি ভেঙে তাদের দর্শকদের দিকেও অনেকে তেড়ে আসেন। মাঠে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাই তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান।
এ বিষয়ে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রোকসানা টুকটুকি বলেন, খেলাটি শুরু থেকে সুন্দরভাবেই চলছিল। টাইব্রেকারে ইতিহাস বিভাগ জেতার পর একপর্যায়ে মারামারি ও উত্তেজনা দেখা দেয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। ইতিহাস বিভাগের একজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার বিষয়টি তিনি দেখেননি, তবে পরে বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। যারা অপরাধী, প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে খেলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে। খেলোয়াড় প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনি নিজে গেটে তালিকা ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তালিকার বাইরে কাউকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ঘটনাটি পুরোপুরি অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
kalprakash.com/IM