জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে আবারও কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছে ভারত। রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ এনে ইসলামাবাদের সমালোচনা করেছে দিল্লির প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে জাতিসংঘকে সন্ত্রাসবাদের প্রকৃত বাস্তবতা উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ভারতের দাবি, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী ও তাদের নির্দেশদাতারা কোনো দুর্গম বা শাসনহীন সীমান্ত এলাকায় নয়, বরং সাধারণ বেসামরিক লোকালয় ও সুরক্ষিত শহরের ভেতরে আশ্রয় পেয়েছিল।
পাকিস্তানকে সরাসরি ইঙ্গিত করে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পারভাথানেনি জানান, ৯/১১ হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী ও আল-কায়েদার প্রধান ওসামা বিন লাদেনসহ খালিদ শেখ মোহাম্মদ, রামজি বিনালশিভ, ওয়ালিদ বিন আত্তাশ এবং মুস্তফা আহমেদ আল-হাউসাবির মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসীরা দূরবর্তী কোনো আস্তানায় নয়, বরং পাকিস্তানের নগর এলাকায় বসবাস করছিলেন।
তিনি বলেন, ৯/১১ হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনায় নির্দেশনাদাতা আল-কায়েদা নেতারা কোনো নির্জন বা দুর্গম এলাকায় বিচার এড়িয়ে লুকিয়ে ছিলেন না। বিশেষ করে ওসামা বিন লাদেন, যিনি ওই হামলার অর্থায়ন ও নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাকে ২০১১ সালের মে মাসে ‘অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার’-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের একটি সুরক্ষিত ও সামরিক নজরদারিতে থাকা লোকালয় থেকে খুঁজে বের করে নির্মূল করা হয়।
ভারতীয় প্রতিনিধি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যেসব শিথিল ও অনুকূল পরিবেশ ৯/১১-এর মাস্টারমাইন্ডদের আশ্রয় দিয়েছিল, একই কাঠামো পরবর্তীতে লস্কর-এ-তৈয়বা (এলইটি) এবং জৈশ-এ-মোহাম্মদ (জেএম)-এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে স্থান, সমর্থন ও নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ শিবির ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেই ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে। এ সময় দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে তাদের একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে হরিশ পারভাথানেনি দাবি করেন, এসব সন্ত্রাসী সংগঠন জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে প্রতিনিয়ত নিজেদের নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করছে। তিনি বলেন, যে অনুকূল পরিবেশ ৯/১১-এর রূপকারদের সুরক্ষা দিয়েছিল, তা বছরের পর বছর ধরে আল-কায়েদার সহযোগী লস্কর-এ-তৈয়বা ও জৈশ-এ-মোহাম্মদের মতো সংগঠনকে অভয়াশ্রয়, সমর্থন ও দায়মুক্তি দিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর হাত থেকে বাঁচতে এসব সংগঠন নতুন নতুন ছদ্মবেশ ধারণ করছে। একই সঙ্গে তাদের নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।
বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ভারতের এই শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, সন্ত্রাসবাদের অস্তিত্ব পুরোপুরি মুছে ফেলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো দেশেই এ ধরনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বজায় না থাকে এবং কোনো সাধারণ নাগরিককে আর স্বজন হারাতে না হয়।
সূত্র: এনডিটিভি
kalprakash.com/IM