ঢাকার ধামরাইয়ে যাত্রীবাহী প্রাইভেটকারে তুলে এক ব্যক্তির হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধরের পর অস্ত্রের মুখে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ছিনিয়ে নেওয়া মুঠোফোনে থাকা ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে তাঁর দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে আরও দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ধামরাই থানায় অজ্ঞাতনামা চারজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. আসিফ আহমেদ (৩২)। তিনি উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
অভিযোগে আসিফ আহমেদ জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে জয়পুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে মানিকগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘক্ষণ বাস না পেয়ে একটি সাদা রঙের ভাড়ায় চালিত প্রাইভেটকারে ওঠেন তিনি। গাড়িটি পাল সিএনজি পাম্প ও কালামপুরের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছালে ভেতরে থাকা চার ব্যক্তি চলন্ত অবস্থাতেই তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর হাত-পা ও চোখ বেঁধে ফেলে এবং বেধড়ক মারধর করে। পরে অস্ত্রের মুখে হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়।
আসিফের অভিযোগ, তাঁর মুঠোফোনে ইসলামী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের ব্যাংকিং অ্যাপ সক্রিয় ছিল। দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই অ্যাপ ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের হিসাব থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং উত্তরা ব্যাংকের হিসাব থেকে ১ লাখ টাকা সরিয়ে নেয়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, চক্রটি প্রথমে ব্যাংক হিসাব দুটি থেকে টাকা তাঁর ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্টে পাঠায় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন এজেন্ট পয়েন্ট থেকে সেসব টাকা তুলে নেয়। এ ছাড়া অভিযুক্তরা নিজেদের ব্যবহৃত একটি বিকাশ নম্বরেও অর্থ স্থানান্তর করে। পাশাপাশি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দুটি পৃথক এটিএম বুথ থেকেও টাকা উত্তোলন করা হয়। লিখিত অভিযোগে সেসব লেনদেনের সুনির্দিষ্ট টার্মিনাল আইডি, ট্রেস নম্বর ও আরআরএন (RRN) নম্বর প্রমাণ হিসেবে যুক্ত করেছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ছিনতাই হওয়া টাকা ও মুঠোফোন উদ্ধারে পুলিশের কার্যকর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
kalprakash.com/IM