ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় অবস্থিত আদানি পাওয়ারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া দ্বিতীয় ইউনিটটি পুনরায় চালু হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই আবার বাংলাদেশে পুরোদমে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডের চলমান ঘাটতি মেটাতে ও লোডশেডিং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৭৫৬ মেগাওয়াট এবং দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রায় ৭৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে কেন্দ্রটির একটি ইউনিটে হঠাৎ কারিগরি বিপর্যয় ঘটায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এতে কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি থেকে এক লাফে কমে প্রায় ৭৫৮ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
এরও আগে গত আগস্টে বৈরী আবহাওয়া ও ঝড়ের কারণে কয়লা পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় কেন্দ্রটিতে উৎপাদন কমে গিয়েছিল। পরবর্তীতে মাসের শেষ দিকে কয়লার সরবরাহ স্বাভাবিক হলে উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। সে সময় দিনে গড়ে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারে (সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত) সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।
আদানির একটি ইউনিট বন্ধ থাকার কারণে গত কয়েক দিন ধরে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় তীব্র চাপ তৈরি হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের তাৎক্ষণিক চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হয় প্রায় ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট; ফলে ঘাটতি গিয়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে। ওই দিন গড়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার ৬৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হয় বিদ্যুৎ বিভাগ।
উল্লেখ্য, ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কেন্দ্রটির সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা অনুযায়ী এ কেন্দ্রটি থেকে এর আগেও দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের নজির রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই আবার সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
kalprakash.com/IM