স্মার্টফোনের বাজারে নতুন চমক নিয়ে প্রথমবারের মতো ভাঁজযোগ্য বা ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। পাসপোর্টের মতো আকৃতির সম্পূর্ণ নতুন এই ডিভাইসের নাম রাখা হয়েছে ‘আইফোন ডুও’। ভাঁজ খুললেই ফোনটিতে পাওয়া যাবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির বড় পর্দা। ডিভাইসটির প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ মার্কিন ডলার (প্রায় ২ হাজার ডলার)।
ভাঁজ করা অবস্থায় আইফোন ডুও সাধারণ স্মার্টফোনের মতোই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করা যায়। আর ভাঁজ খুললে এটি অনুভূমিক কিংবা উল্লম্ব—উভয়ভাবেই ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ডিসপ্লেতে রূপ নেয়। অ্যাপলের দাবি, খোলা অবস্থায় এটি তাদের তৈরি ইতিহাসের সবচেয়ে পাতলা আইফোন। তবে চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর ফোল্ডেবল ফোনের তুলনায় এটি কিছুটা মোটা ও ভারী।
নতুন এই আইফোনের ডিজাইনে ব্যবহার করা হয়েছে প্রিমিয়াম টাইটানিয়াম বডি এবং বিশেষভাবে নির্মিত টেকসই হিঞ্জ। অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের নেতৃত্বে এটি প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম বড় উদ্ভাবন। জন টার্নাস জানান, বাজারে থাকা অনেক ফোল্ডেবল ফোন দেখতে আকর্ষণীয় হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা খুব একটা কার্যকর নয়। তাই আইফোন ডুওকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি সহজে পকেটে রাখা যায় এবং প্রয়োজন হলে আইপ্যাডের মতো বড় স্ক্রিনের দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
কাজের ক্ষেত্রে মাল্টিটাস্কিংকে প্রাধান্য দিতে এতে একই সঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো এবং বড় পর্দায় একাধিক উইন্ডো খুলে রাখার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। জুম কলে একসঙ্গে অনেক অংশগ্রহণকারীকে দেখার পাশাপাশি স্ল্যাকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের বার্তাও এতে বড় পরিসরে দেখা যাবে।
ডিভাইসটির অভ্যন্তরে রয়েছে অ্যাপলের সর্বাধুনিক ‘এ২০ প্রো’ চিপ এবং প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘সি২’ মডেম। কোয়ালকমের চিপের ওপর নির্ভরতা কমানোর অংশ হিসেবেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। অ্যাপলের দাবি, ডুয়াল স্ক্রিন মিলিয়ে মিশ্র ব্যবহারে ফোনটি টানা ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। এছাড়া মাত্র ২০ মিনিটেই এর ব্যাটারি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে।
বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যাপলের এই পদক্ষেপ ফোল্ডেবল ফোনের বাজারকে মূলধারায় নিয়ে আসবে। আন্তর্জাতিক ডেটা করপোরেশন (আইডিসি) পূর্বাভাস দিয়েছে, আগামী বছরের শেষ নাগাদ ফোল্ডেবল ফোনের বাজারে অ্যাপলের দখল হতে পারে প্রায় ৪০ শতাংশ। বর্তমানে এই বাজারে স্যামসাং ও হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।
আইফোন ডুওর পাশাপাশি একই অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও ১৮ প্রো ম্যাক্সও উন্মোচন করেছে অ্যাপল। এগুলোর প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৯৯ ও ১ হাজার ২৯৯ ডলার। এছাড়া ১২৯ ডলার মূল্যের নতুন এয়ারপডস এবং স্বাস্থ্য ও ফিটনেসকেন্দ্রিক নতুন সুবিধাসহ অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ ও ওয়াচ আল্ট্রা ৪ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
kalprakash.com/IM