জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগ উঠেছে। ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘরের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্ন মেঝেতে বড় পাত্রে খাবার তৈরি করা হচ্ছে। একই স্থানে রান্নার কাজে ব্যবহৃত বাসন ও পাত্রের ওপর পা তুলে বসে থাকতে দেখা যায় এক কর্মচারীকে। এ ছাড়া রান্নার বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীও মেঝেতে অবহেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এমন পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের দৃশ্য প্রকাশ্যে আসায় ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মাসুদ বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত বিব্রতকর। আমার কর্মচারীরা এভাবে খাবার প্রস্তুত করছে—এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। হঠাৎ কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা বোধগম্য নয়। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি খাবারের মান বজায় রাখা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পরই আমরা ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত বিব্রতকর হিসেবে স্বীকার করেছেন এবং কাল থেকেই এমন পরিস্থিতি বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন। খাবারের মান আরও উন্নত করতে আমাদের চেষ্টা চলছে। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার সাশ্রয়ী রাখতে গিয়ে বিষয়টি দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। আজকের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আমাদের সজাগ দৃষ্টি থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক রিফাত হাসান বলেন, আমরা ছবিটি দেখেছি। তবে ছবিটি বাস্তব নাকি এআই-জেনারেটেড—তা আগে তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্যের মান ও উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমেও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যেভাবে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও দুঃখজনক।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসনাত হাবিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কপালে যেন ভোগান্তি ছাড়া কিছুই নেই। প্রতিদিন যে খাবার আমরা খাচ্ছি, সেটির মান ও প্রস্তুতপ্রক্রিয়া নিয়ে যদি এমন প্রশ্ন ওঠে, তবে তা অত্যন্ত হতাশাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহাবুবুর রহমান ক্যাফেটেরিয়ার পরিবেশ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘দেখেই বমি আসতেছে! কী খাচ্ছি দৈনিক আমরা জবিয়ানরা? খাবারের ওপর এভাবে পা রাখছে, ছিহ!’ একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তার দায় কে নেবে—এমন প্রশ্ন তুলে ক্যাফেটেরিয়ার খাবার বর্জনের আহ্বানও জানান তিনি।
পুরান ঢাকার প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের ওপর নির্ভর করেন। এমন পরিস্থিতিতে রান্নাঘরের চরম অব্যবস্থাপনা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁরা অবিলম্বে ক্যাফেটেরিয়ার পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত করা, নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা এবং খাবারের মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
kalprakash.com/IM