সুন্দরবন ও উপকূলীয় নৌপথে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে জলদস্যুতা, বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজ সম্পদ পাচার বন্ধে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাগেরহাটের মোংলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, বন বিভাগ ও মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় উপকূলীয় নৌপথের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে সুন্দরবনগামী পর্যটকবাহী নৌযান এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী লাইটার ও কোস্টার জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, নোঙর করা অবস্থায় নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা বজায় রাখতে হবে। এর ফলে রাতের বেলা নৌযানের আশপাশে যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। নৌযান মালিক ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতেও এ নির্দেশনা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর আরোপিত ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য মাঠপর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বিত টহল জোরদারের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজ সম্পদ পাচার রোধের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনার রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবন ও উপকূলীয় নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন সংস্থার এই সমন্বিত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM