রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের ব্যয়ভার মেটাতে নতুন রাজস্বের সন্ধানে নেমেছে ইউক্রেন। এরই অংশ হিসেবে দেশটিতে বর্তমানে বেআইনি হিসেবে বিবেচিত পর্নোগ্রাফি শিল্পকে বৈধতা দিয়ে তার ওপর কর আরোপের একটি প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এই খাত থেকে বছরে আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এবং বিলটির অন্যতম প্রধান প্রস্তাবক ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াকের দাবি, এই সংগৃহীত রাজস্ব দিয়ে সেনাবাহিনীর জন্য বছরে প্রায় ৩০ হাজার সামরিক ড্রোন কেনার খরচ জোগানো সম্ভব।
যদিও ইউক্রেনের সামগ্রিক যুদ্ধ ব্যয়ের তুলনায় এই রাজস্বের অঙ্ক খুবই সামান্য। কিয়েভের আনুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, দেশটির প্রতিরক্ষা খাতে বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন। তবে আইনপ্রণেতাদের মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিটি অতিরিক্ত রাজস্বই সম্মুখ সমরে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউক্রেনে অনলাইনে অ্যাডাল্ট কনটেন্ট তৈরির পরিধি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও দেশটির বিদ্যমান আইনে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণ এখনো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে এই খাতের কনটেন্ট ক্রিয়েটররা কর কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের আয় ঘোষণা করতে গেলে উল্টো ফৌজদারি মামলার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইউক্রেনের প্রায় ৭ হাজার ৯০০ নাগরিক ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন। এই পরিসংখ্যান দেশটির অ্যাডাল্ট কনটেন্ট শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক পরিসরকে স্পষ্ট করে।
তবে ক্রিয়েটরদের কাছ থেকে কর আদায়ের উদ্যোগ নিতে গিয়ে দেশটিতে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেক নির্মাতা স্বেচ্ছায় তাঁদের আয় প্রকাশ করার পর একদিকে করসংক্রান্ত জটিলতা, অন্যদিকে পর্নোগ্রাফি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশি তদন্তের মুখে পড়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া এই শিল্পকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ইউক্রেনের তিনটি অঞ্চলের কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার নামে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা ও ঘুষ নেওয়ার নজির পাওয়া গেছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ের তুলনায় প্রস্তাবিত করের অর্থ খুব বেশি না হলেও, বিদ্যমান একটি অনানুষ্ঠানিক খাতকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে সামরিক ড্রোন ক্রয়ের মতো উদ্যোগ ইউক্রেনে নতুন করে নীতিগত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
kalprakash.com/IM