যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ২ নম্বর কাশিমনগর ইউনিয়নের ইত্যা বাজারে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিন কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় সামছুল হক, ফজলুল হক ও আশরাফুল ইসলাম নামের তিন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ইত্যা বাজারে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর একপর্যায়ে বিএনপি-সমর্থিত রাজ্জাকের নেতৃত্বে একদল লোক জামায়াত কর্মী সামছুল হকের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাঁকে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে স্বজনদের দাবি।
পরে আহত সামছুল হককে দেখতে যাওয়ার পথে আতাউরের দোকানের সামনে আরো কয়েকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় জামায়াত কর্মী ফজলুল হককে মারধর করে সার ও খড়ের গর্তে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে সেখানে ফেলে রেখে যায়। একই ঘটনায় আশরাফুল ইসলাম নামের আরেক কর্মীকেও হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়েছে বলে তাঁর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাতে ফজলুল হককে দীর্ঘ সময় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে স্থানীয়রা পার্শ্ববর্তী একটি বাগান থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—শাহাজান, আমিনুর ড্রাইভার, আতাউর, আবু তাহের, নাসির, হজরত/নয়ন, শামিম, রিয়াদুল ইসলাম, জামাল, মুজাম্মেল, ইসমাইল, আব্দুর রহমান, তরিকুল, হাবিবুর রহমান রুবেল, শফিয়ার, ইব্রাহিম, ইসমাইল, সুমন, শরিফুল ও আজহারুল ইসলাম।
হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাডভোকেট তাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, আমরা মনে করি এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শান্তি ও আইনের শাসনের স্বার্থে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে ঘটনার পর ইত্যা বাজার ও আশপাশের এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে হামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
kalprakash.com/IM