যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসীকে নিজ দেশে সাময়িকভাবে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা। শনিবার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তির কথা জানানো হয়েছে।
বার্তাসংস্থা এএফপির বরাতে বাসস জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান জোরদার করে তাঁর প্রশাসন। এই নীতির অংশ হিসেবে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে ‘তৃতীয় কোনো দেশে’ স্থানান্তরের বিতর্কিত উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
চুক্তির শর্ত হিসেবে গায়ানা সরকার স্পষ্ট করেছে, যেসব বহিষ্কৃত অভিবাসীর কোনো প্রকার অপরাধমূলক অতীত রেকর্ড নেই, কেবল তাঁদের মধ্য থেকে অত্যন্ত সীমিতসংখ্যক ব্যক্তিকে গায়ানায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ইরফান আলীর সরকার এই মানবিক সহযোগিতাকে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গায়ানার দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সম্প্রসারণ হিসেবেই বিবেচনা করছে।’
এর আগে মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের এমন বহিষ্কার কার্যক্রমে সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। যার অংশ হিসেবে সম্প্রতি প্রায় ২৫০ জন ভেনেজুয়েলার নাগরিককে এল সালভাদরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার ‘সেকোট’-এ পাঠানো হয়েছে।
তবে গায়ানা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের এই বন্দোবস্ত সম্পূর্ণ ‘সাময়িক’ এবং এর মাধ্যমে কোনো অভিবাসীকে গায়ানায় স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে না। দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, অভিবাসীদের সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত সম্মতির ভিত্তিতেই গায়ানায় আনা হবে এবং সেখানে অবস্থানকালীন তারা নিজেদের মূল অভিবাসন মর্যাদার আইনি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকবেন। পরবর্তীতে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাইলে নিজ দেশে ফিরে যাবেন অথবা নিজেদের পছন্দমতো অন্য কোনো দেশে চলে যাবেন।
kalprakash.com/IM