সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ | ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৫:১৮:০৯

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৯
শেয়ার: mail
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩ হাজার ৪৪ জন। নতুন করে বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বাড়তে থাকায় উদ্ধারকর্মীরা নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে গেছেন। আজ রোববার (৩০ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে এ সংখ্যা জানা গেছে।

খারাপ আবহাওয়া এবং নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে একটি হ্রদের কারণে শুক্রবার থেকে কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান স্থগিত করতে হয়েছে। গত বুধবার একটি হিমবাহ ধসে কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই হ্রদ উপচে নেপালের নদীগুলোতে তীব্র বেগে পানি প্রবেশ করতে শুরু করায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের হিসাবে, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে চীন এই বিপর্যয়ের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের যোগসূত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শনিবার নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াং ই এই কাদাধসকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল হওয়ায় উদ্ধার অভিযান নজিরবিহীন কঠিন ও জটিল হয়ে উঠেছে।

টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা

হিমালয়ের নদীগুলোতে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে আসার পর নেপালে উদ্ধার অভিযানের মূল লক্ষ্য এখন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শত শত টানেলে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার করা।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন এবং এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৫১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

অন্যদিকে চীনের তিব্বতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতে নিখোঁজদের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৪ জন নেপালের, ৪৯ জন ভারতের, ৩৩ জন লাটভিয়ার, ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের এবং ১৫ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক।

বেইজিং ও কাঠমান্ডু যৌথভাবে নিখোঁজ নেপালি ও অন্যান্য বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ প্রতিরোধ, ক্ষয়ক্ষতি প্রশমন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করছে বলে জানিয়েছে সিসিটিভি।

রোববার নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাতের পর ত্রিশূলী নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। ফলে নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা উঁচু এলাকায় সরে যেতে বাধ্য হন।

নেপাল জানিয়েছে, সাধারণ উদ্ধার তৎপরতার জন্য তাদের বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানান, টানেল থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য হিমায়িত ব্যবস্থা এবং পচনশীল লাশের ফরেনসিক শনাক্তকরণের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন। বর্তমানে ভারত ও চীনের বিশেষজ্ঞরা টানেলগুলো পরিষ্কার করে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপালের সঙ্গে কাজ করছেন।

উজানের যে হ্রদটি উদ্ধার অভিযানকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছিল, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে সেটির পানি অনেকটাই কমে যায় বলে সিসিটিভি জানায়। তবে শনিবার রাতে ড্রোনের মাধ্যমে হ্রদ থেকে ২.৮ কিলোমিটার (১.৭ মাইল) ভাটিতে নতুন একটি ভূমিধস শনাক্ত করা হয়। এতে আবারও একটি প্রাকৃতিক বাঁধ ও নতুন পানির আধার তৈরি হয়েছে। ফলে কর্তৃপক্ষ গিরং সীমান্ত পারাপার এলাকার কাছাকাছি থাকা উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতার কারণেই এই প্রলয়ঙ্করী বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। চীনা কর্মকর্তারা এটিকে তিব্বত মালভূমিতে হিমমণ্ডল-সম্পর্কিত দুর্যোগের একটি নতুন ও উদ্বেগজনক বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

চীনা বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে সিসিটিভি জানায়, নেপালের দিক থেকে নেমে আসা তীব্র কাদাধসের স্রোত গিরং সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছাতে মাত্র ছয় থেকে সাত মিনিট সময় নিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, পানির তীব্র স্রোত ও ধ্বংসাবশেষ মুহূর্তেই ভবনগুলোকে গ্রাস করছে এবং মানুষ প্রাণভয়ে পালাচ্ছে।

ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য চীন ইতোমধ্যে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে এবং অন্তত ২২ কোটি ইউয়ান (প্রায় ৩২.৭ কোটি মার্কিন ডলার) বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়া নেপালকে জরুরি আর্থিক সহায়তা, ত্রাণসামগ্রী, স্যাটেলাইট ও জলবিদ্যা সংক্রান্ত তথ্য এবং টানেল উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ সহায়তা পাঠাচ্ছে বেইজিং। সেখানে ড্রোন, হেলিকপ্টার, লাইফ ডিটেক্টর ও উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিখোঁজদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

বিস্তারিত কমেন্টে