রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ২:২৮:৩৬

দেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না, গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৪
শেয়ার: mail
দেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না, গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: রাষ্ট্রপতি

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না এবং প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

আজ রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

বিগত দেড় দশকের স্বৈরশাসনের কঠোর সমালোচনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ওই সময়ে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর দুঃসহ থাবা গোটা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলেই নাগরিকদের তুলে নিয়ে গুম করা হতো। অথচ সে সময় দলীয় আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ সবসময় অস্বীকার করে গেছে।

বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাজেদুল ইসলাম সুমন এবং দীর্ঘ বন্দিদশার শিকার ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীর কথা স্মরণ করেন। এমনকি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও দীর্ঘ দুই মাস গুম করে ভিনদেশের মাটিতে ফেলে আসার রোমহর্ষক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসা সত্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ভয়াবহ। কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন এখনও নিখোঁজ ও মৃত। রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতেই দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের বেছে বেছে গুম ও খুন করা হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গুম প্রতিরোধে বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারকে রক্ষা এবং গুমকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারকাজ সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

দেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না, গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: রাষ্ট্রপতি

বিস্তারিত কমেন্টে