রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৬ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | দুপুর ১:০১:২১

গুমের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিশ্ব সংহতির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৮
শেয়ার: mail
গুমের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিশ্ব সংহতির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাও’।

তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স সবচেয়ে ভয়ংকর একটি অপরাধ। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ভিন্নমত দমনে এ ধরনের অমানবিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়।

বিগত সরকারের দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতেই গুম-অপহরণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে তৈরি করা হয়েছিল গোপন বন্দিশালা, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বিগত সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স চিরতরে বন্ধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ কেবল কোনো ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু জড়িয়ে থাকে। স্বজনদের প্রতিটি দিন কাটে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনের সুযোগটুকুও থাকে না।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবশত কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তাই গুমের মতো ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সমন্বিত প্রয়াস জরুরি।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

গুমের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিশ্ব সংহতির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিস্তারিত কমেন্টে