রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) টিএসসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভবনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে রসায়ন বিভাগের অন্তত চারজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম।
গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কৃষি অনুষদের সাবেক ডিন ও ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাহাল উদ্দিন।
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে এবং উভয় বিভাগের একাডেমিক ভবনে এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা হলেন রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টিএসসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। এর একপর্যায়ে নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এতে রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।
এর জেরে রসায়ন বিভাগের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন। পরে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের জাবির ইবনে হাইয়ান একাডেমিক ভবনে পাল্টা হামলা ও ভাঙচুর চালান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের অতিরিক্ত প্রধান চিকিৎসক সাজিদ হাফিজ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় মোট চারজন শিক্ষার্থী চিকিৎসাকেন্দ্রে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে মাথা ও চোখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘তদন্ত কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখবে। কমিটির সুপারিশ ও প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
kalprakash.com/IM