রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১২ নম্বর মিলনপুর ইউনিয়নের মকিমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং বরাদ্দকৃত ওষুধ যথাযথভাবে বিতরণ না করার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মোছা. শারমিন নাহারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পাশাপাশি ক্লিনিকের পেছনে মাটিতে পুঁতে রাখা ও ফেলে রাখা বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লিনিকে উপস্থিত না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। তাঁদের দাবি, সিএইচসিপি শারমিন নাহার মাসে প্রায় ১৫ দিন, আবার কখনো সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন ক্লিনিকে আসেন। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয় রোগীদের।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ক্লিনিকে বরাদ্দ পাওয়া ওষুধের একটি বড় অংশ যথাসময়ে রোগীদের মধ্যে বিতরণ না করায় সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে লোকচক্ষুর আড়ালে ক্লিনিকের পেছনে মাটিতে পুঁতে ও ফেলে রাখা হয় এসব ওষুধ।
স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা ওষুধের কয়েকটির মেয়াদ ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত এবং কিছু ওষুধের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেখা যায়। এতে প্রশ্ন উঠেছে, মেয়াদ থাকার পরও ওষুধগুলো রোগীদের না দিয়ে কেন মাটিতে পুঁতে রাখা হলো।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সিএইচসিপি মোছা. শারমিন নাহার দাবি করেন, অসুস্থতার কারণে তিনি চিকিৎসার্থে ছয় মাস ভারতে ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে আবু রাসেল নামে একজন সিএইচসিপি সপ্তাহে দুই দিন করে ক্লিনিকের দায়িত্ব পালন করেন।
তবে সিএইচসিপি আবু রাসেল জানান, তিনি ১৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ১৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত শারমিন নাহারের পরিবর্তে সপ্তাহে দুদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে কোনো ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়নি এবং তিনি কোনো ওষুধ ফেলে দেননি বা পুঁতে রাখেননি। ফলে দুজনের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্দেশে ওয়াজেদ আলী নামে একজন কর্মকর্তা ১৯ আগস্ট ক্লিনিকটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্তের সময় উদ্ধার করা ওষুধগুলো তিনি নিজ হেফাজতে নেননি। ফলে তদন্তের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, মকিমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সার্বিক অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করে স্টক রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দায়ীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর হাসান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
kalprakash.com/IM