রাজধানীর অন্যতম পরিচিত হৃদরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের বসার জায়গায় সিলিংয়ের একটি অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষমাণ স্থানে হঠাৎ সিলিং ভেঙে পড়লে সেখানে থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ওই স্থানে রোগীদের স্বজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আসা রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরাও অবস্থান করছিলেন। বিশেষ করে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের অনেক স্বজন সেখানে অপেক্ষা করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সিলিংয়ের অংশটি হঠাৎ করে নিচে পড়ে যায়। এতে অপেক্ষমাণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। হাসপাতালের ভবনের বিভিন্ন স্থানে সিলিং নষ্ট হয়ে থাকার বিষয়টিও চোখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানে অবস্থানকারীরা।
ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা পর ওই স্থানে নতুন করে লাইট লাগানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে জানা গেছে।
দেশের অন্যতম স্বনামধন্য হৃদরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগীরা আসেন। বিশেষ করে জটিল হৃদরোগ, আইসিইউসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটির ওপর আস্থা রাখেন রোগী ও স্বজনরা।
তবে এখানে চিকিৎসার ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম নয়। ভর্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই সিরিয়ালের প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতে রোগী ও স্বজনদের বসার স্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিলিংয়ের অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনায় হাসপাতালের অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আইসিইউসহ গুরুতর রোগীদের স্বজনরা যখন হাসপাতালের ভেতরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, তখন তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব।
ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অবকাঠামো পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিলিংয়ের নষ্ট অংশগুলো দ্রুত শনাক্ত করে সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি হাসপাতালের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।