যশোরের কেশবপুরে মোটরসাইকেলে করে ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে নছিমন (আলমসাধু)-এর ধাক্কায় ইয়াসিন আরাফাত (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে কেশবপুর হাসপাতাল সড়কের খাদ্য গুদামের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইয়াসিন আরাফাত উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের কাঁস্তা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক রুস্তম আলীর ছেলে। তিনি কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কলেজের দিকে যাচ্ছিলেন আরাফাত। কেশবপুর শহরের খাদ্য গুদাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি চলন্ত আলমসাধুর সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে মুখমণ্ডল ও শরীরে মারাত্মক জখম হন।
স্থানীয়রা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করেন। তবে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, “গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে পথিমধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসিন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২৪ সালে সাগরদাঁড়ী এম এম ইনস্টিটিউশন থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেছিলেন। পরীক্ষা দিতে গিয়ে তরুণের এমন অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
kalprakash.com/IM