একদিকে বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে কাঁচা-দুর্গম সড়ক ও নদীপথ। বর্ষায় কোথাও কোমরসমান পানি, আবার কোথাও ভাঙাচোরা রাস্তা। এমন হাজারও প্রতিকূলতা পেরিয়েও থমকে নেই উপকূলেই প্রাইমারি স্কুলের কোমলমতি শিশুদের কাছে পুষ্টিকর টিফিন পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম। প্রতিদিন প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে যাচ্ছে টাটকা ডিম, কলা ও পুষ্টিকর বনরুটি। এতে একদিকে যেমন শিশুদের দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও ভর্তির আগ্রহ।
সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ‘স্কুল ফিডিং’ পাইলট প্রকল্পের এমনই এক ইতিবাচক ও সাফল্যের চিত্র দেখা গেছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় দুর্যোগপ্রবণ শ্যামনগর উপজেলায়। সরকারের নির্দেশনায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’। শ্যামনগরের ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ৭টি ইউনিয়নসহ মোট ১৯১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ৮১৫ জন শিশু শিক্ষার্থীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ৩০টি বিদ্যালয়ে খাবার পৌঁছাতে সড়কপথের পাশাপাশি ট্রলার ব্যবহার করতে হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কাঁচা রাস্তা ও উত্তাল নদীপথে খাদ্য পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই শিশুদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এই পুষ্টিকর টিফিন।
১৬২ নম্বর আটুলিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীনেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, “স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর থেকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও নতুন ভর্তির হার ঈর্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। অসচ্ছল পরিবারের শিশুরা পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় অভিভাবকরাও এখন সানন্দে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন।”
সুশীলন-এর উপ-পরিচালক শাহিনা পারভীন জানান, দেশের চারটি জেলার ৬টি উপজেলায় সুশীলন এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে নদী ও খালবেষ্টিত শ্যামনগরে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। দুর্যোগ বা সতর্কসংকেত পেলেই বিকল্প পরিবহনের মাধ্যমে খাবারের গুণগত মান ঠিক রেখে বিতরণ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামূল হক বলেন, “উপকূলীয় শিশুদের পুষ্টির সুরক্ষা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। দুর্গম এলাকায় নিয়মিত টিফিন পৌঁছানো কঠিন হলেও তা সফলভাবে চলছে। এতে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার বহুগুণ কমে এসেছে। খাবারের মান ও সার্বিক বিতরণ কার্যক্রম আমরা প্রতিনিয়ত তদারকি করছি।”
kalprakash.com/IM