পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূর ওপর বর্বরোচিত হামলা ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারীর দাঁত ভেঙে দেওয়া, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় নগদ টাকা, বাদাম ও মালামাল লুটসহ ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দেবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কনিকা রায় গত ১২ জুন ধর্ম পরিবর্তন করে কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। পরবর্তীতে তিনি একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা দারগালীকে বিয়ে করেন। ধর্মান্তরিত হওয়া ও এই বিয়ে মেনে নিতে না পেরে আসামিরা পূর্ব শত্রুতা ও আক্রোশ পুষে রাখে।
এরই জের ধরে গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে আসামিরা লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কুলসুমের ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। আসামিরা প্রথমে বিয়ের হলফনামা ছিঁড়ে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে রাকিব ইসলাম নামের এক আসামি লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তাঁর সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায়। এ সময় সোহেল রানা নামের অপর আসামি ব্লেড দিয়ে তাঁর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয় এবং কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে তাঁর যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর স্বামী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও বেদম মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা বসতঘরে ভাঙচুর চালিয়ে ঘরে থাকা নগদ ৮৫ হাজার টাকা ও ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের বাদাম লুট করে নেয় এবং যাওয়ার সময় তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে আশপাশের প্রতিবেশীরা মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কুলসুম বেগম বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাস চন্দ্র রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে ৩ জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।”
kalprakash.com/IM