পঞ্চগড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত ‘মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টার’-এর বিরুদ্ধে লিভার পরীক্ষার ভুয়া ও অসঙ্গতিপূর্ণ রিপোর্ট দিয়ে রোগীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগী জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। চিকিৎসাসেবার নামে এমন প্রতারণার ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তাঁরা অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের দাবি জানান।
ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলা শহরের তেঁতুলিয়া মহাসড়কের আনোয়ার প্লাজায় অবস্থিত ‘মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে’। ভুক্তভোগী রোগীর নাম সাইদুজ্জামান রেজা (৪৪)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট (রবিবার) লিভার আক্রান্ত রোগী সাইদুজ্জামান রেজা পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে লিভার পরীক্ষা করালে তাঁর রক্তে ‘এসজিপিটি’ (SGPT) লেভেল ১২৭ U/L ধরা পড়ে। লিভারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিশ্চিত হওয়ার লক্ষ্যে ওই দিনই তিনি মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে পুনরায় রক্তের নমুনা দেন। তবে ওই সেন্টারের দেওয়া রিপোর্টে এসজিপিটির মাত্রা পাওয়া যায় মাত্র ২৬.৭ U/L।
দুই রিপোর্টের বিশাল ব্যবধান দেখে সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরদিন ১০ আগস্ট (সোমবার) পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয়বারের মতো পরীক্ষা করান ভুক্তভোগী। সেখানে রক্তে এসজিপিটির মাত্রা আসে ১২১ U/L। সদর হাসপাতাল ও ডায়াবেটিক হাসপাতালের রিপোর্টের সঙ্গে মেডিকেয়ার সেন্টারের চরম অসামঞ্জস্যতা দেখে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের পরিচালক সৈয়দা নাসরিন মিনুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটানোর অপচেষ্টা চালান। তবে একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, তাঁদের সেন্টারের দেওয়া রিপোর্টে কোনো ভুল নেই।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা যায়, লিভার প্রদাহ নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে ‘ফুল অটোমেটিক’ মেশিন ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও মেডিকেয়ার সেন্টারে মানহীন ‘সেমি অটো’ মেশিন দিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। আরও আশঙ্কাজনক তথ্য হলো—পঞ্চগড় ডায়াবেটিক সমিতি ও মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টার—উভয় প্রতিষ্ঠাতেই টেকনোলজিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন আবুল বাশার নামের এক ব্যক্তি। একই দিনে একজন রোগীর দুটি ভিন্ন রিপোর্ট কীভাবে দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগেও ভুল রিপোর্টের অভিযোগে আবুল বাশারকে ডায়াবেটিক সমিতি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, “মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগকারীর তিন প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের মধ্যে মেডিকেয়ারের এসজিপিটি রিপোর্টটি চরম অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
kalprakash.com/IM