ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগ ও দীর্ঘদিনের নীরব সাধনার পর ‘লোভী’ কবিতার মধ্য দিয়ে পাঠকদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন তরুণ উদীয়মান কবি ইয়াহিয়া আহমেদ। আবেগ, না-পাওয়ার বেদনা ও জীবনের নানা অনুভূতিকে সহজ-সরল ভাষায় এবং আঞ্চলিক শব্দের বুননে ফুটিয়ে তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়াজাগিয়েছেন তিনি।
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলবাড়িয়া গ্রামের সন্তান ইয়াহিয়া আহমেদের পিতা মোহাম্মদ শওকত আকবর এবং মাতা শারমিন আক্তার শিরিন।
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের পর পেশাগত কারণে ব্যবসার সাথে যুক্ত হলেও সাহিত্যচর্চার প্রতি তাঁর একাগ্রতায় ভাটা পড়েনি। একসময় লোকলজ্জা ও পরিচিতদের মন্তব্যের ভয়ে নিজের পরিচয় গোপন রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছদ্মনামে লিখতেন তিনি। বিশেষ করে কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফার ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ উপন্যাস তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। পরবর্তীতে শুভানুধ্যায়ী— লেখক এস.এইচ. সইকত ও রাবেয়া পারভিন মুক্তার অনুপ্রেরণায় নিজের আসল পরিচয়ে প্রকাশ্যে লেখালেখি শুরু করেন।
সম্প্রতি সাড়াজাগানো ‘লোভী’ কবিতায় প্রমিত ভাষার পাশাপাশি কথ্য ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্য এবং ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’, ‘লজ্জাবতী গাছ’ ও ‘কৃষ্ণচূড়া’র মতো অনন্য প্রকৃতির উপমা ব্যবহার করায় এটি নেটিজেন ও সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এর আগেও তাঁর লেখা ‘চিত্তরঞ্জনের ঘাট’ ও ‘উল্কাপাত’ কবিতা দুটিও পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিল।
কবিতার গণ্ডি পেরিয়ে এবার সংগীত জগতেও পা রাখতে যাচ্ছেন তরুণ এই রচয়িতা। তাঁর লেখা একটি গান নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এক কণ্ঠশিল্পীর কণ্ঠে মুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
গানের বিষয়ে নবীন এই লেখক বলেন, “খুব শিগগিরই আমার লেখা একটি বিশেষ গান প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। নব্বই দশকের নামকরা এক প্রবীণ শিল্পীর সাথে এ নিয়ে আলোচনা ও চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। আশা করি শ্রোতারা চমৎকার একটি সৃষ্টি উপহার পাবেন।”
শিল্পীর প্রতিনিধি দল তাঁর ব্লগে প্রকাশিত— “তুই তাকালে জোয়ার ভাটা, চমকে উঠি আমি / মহাকাশের চাঁদনী রে, তুই আমি কি তুই হবি?” —সংগীতের দুটি লাইন দেখে মুগ্ধ হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগের উদ্যোগ নেয়।
দীর্ঘদিনের গোপন সাধনার পর সাফল্য পাওয়া উদীয়মান এই তরুণ লেখক নিয়মিত পাঠাভ্যাস ও অনুশীলনের মাধ্যমে আগামী দিনে বাংলা সাহিত্যে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাহিত্যপ্রেমীরা।
kalprakash.com/IM