দক্ষ কর্মীদের জন্য ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার জার্মানি। দেশটিতে বিভিন্ন খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা থাকায় বিদেশি পেশাজীবীদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এমনকি চাকরির নির্দিষ্ট অফার না থাকলেও জার্মানিতে গিয়ে কাজ খোঁজার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য চালু রয়েছে ‘অপারচুনিটি কার্ড’, জার্মান ভাষায় যাকে বলা হয় ‘চান্সেনকার্টে’।
সম্প্রতি দুবাইয়ে গালফ নিউজ লেভেলআপের এক আলোচনায় জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে দক্ষ কর্মীদের সুযোগ নিয়ে কথা বলেন ওয়াই-অ্যাক্সিসের পরিচালক ক্লিন্ট খান। সেখানে তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
কী এই অপারচুনিটি কার্ড?
অপারচুনিটি কার্ড মূলত জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার জন্য দেওয়া একটি আবাসন অনুমতি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বা ইউরোপিয়ান ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (ইএফটিএ)-এর বাইরের দেশের যোগ্য নাগরিকরা এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।
আবেদনের সময় জার্মান কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নির্দিষ্ট চাকরির অফার থাকা বাধ্যতামূলক নয়। প্রাথমিকভাবে কার্ডটি সর্বোচ্চ ১২ মাসের জন্য দেওয়া হয়।
এ সময়ে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করা যায়। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কোনো প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের ট্রায়াল কাজের সুযোগও রয়েছে।
কারা পাবেন?
অপারচুনিটি কার্ড পাওয়ার প্রধানত দুটি পথ রয়েছে।
প্রথমত, কারও বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা জার্মানিতে স্বীকৃত হলে তিনি দক্ষ কর্মী হিসেবে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পয়েন্টভিত্তিক মূল্যায়নের প্রয়োজন হয় না।
দ্বিতীয় পথ হলো পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর স্বীকৃত পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতাসহ নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করে অন্তত ৬ পয়েন্ট অর্জন করতে হয়।
সাধারণভাবে পয়েন্টভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রে জার্মান ভাষায় অন্তত এ১ অথবা ইংরেজিতে বি২ পর্যায়ের দক্ষতা প্রয়োজন হয়।
এ ছাড়া জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের জীবনযাত্রার খরচ বহন করতে পারবেন—এমন আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণও দিতে হয়। ২০২৬ সালে এ ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রতি মাসে ১ হাজার ৯১ ইউরো নিট অর্থের সক্ষমতা দেখানোর কথা সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
চাকরি পেলে কী হবে?
অপারচুনিটি কার্ড নিয়ে জার্মানিতে যাওয়ার পর কেউ উপযুক্ত চাকরি পেলে পরবর্তী ধাপে প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়ার্ক বা রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন।
অর্থাৎ অপারচুনিটি কার্ড নিজে স্থায়ীভাবে পূর্ণকালীন চাকরি করার অনুমতি নয়। চাকরি পাওয়ার পর পরিস্থিতি ও যোগ্যতা অনুযায়ী অন্য ধরনের আবাসন অনুমতিতে পরিবর্তন করতে হয়।
নির্দিষ্ট চাকরির অফার পাওয়া গেলে যোগ্য আবেদনকারীরা ওয়ার্ক ভিসা, ইইউ ব্লু কার্ড বা প্রযোজ্য অন্য আবাসন অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।
পড়াশোনা নাকি দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার?
বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনায় শুধু কোন দেশে বা কী বিষয়ে পড়াশোনা করা হবে, সেটিই বিবেচনার বিষয় নয়। পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে সেখানে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনাও আগে থেকে বিবেচনা করা জরুরি।
ক্লিন্ট খানের মতে, কেউ সত্যিই বিদেশে পড়াশোনা করতে চাইলে সেই লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। তবে শুধু বিদেশে যাওয়ার পথ হিসেবে পড়াশোনাকে বেছে নিলে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের সুযোগ পাওয়া যাবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
কারণ কোনো দেশে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ সীমিত হলে সেখানে দীর্ঘমেয়াদে থাকার পরিকল্পনাও জটিল হয়ে যেতে পারে। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে নিজের লক্ষ্য, বাজেট, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
জার্মানি ছাড়াও সুযোগ
জার্মানির পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতেও দক্ষ কর্মীদের জন্য বিভিন্ন অভিবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ায় স্কিলড মাইগ্রেশন এবং কানাডায় ফেডারেল স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রামের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা পেশাজীবীরা কাজ ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ খুঁজতে পারেন।
তবে প্রতিটি দেশের ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থার শর্ত আলাদা। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নিয়ম, যোগ্যতা, ভাষাগত শর্ত এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা জরুরি।
kalprakash.com/IM