যশোর শহরের বড়বাজার ঝালাইপট্টি এলাকার যৌনপল্লীতে কল্পনা (৩০) নামে এক নারীকে তিনদিন ঘরে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় বেধড়ক মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পিংকি নামে এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় কল্পনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নির্যাতিতা কল্পনা যশোর বেনাপোল পোর্ট থানার পুটখালী এলাকার অধিবাসী ও ঝালাইপট্টির বাসিন্দা কামরুল হাসানের স্ত্রী।
চিকিৎসাধীন কল্পনার অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে ঝালাইপট্টি এলাকার ঘরওয়ালী ছায়রা এবং ওই ঘরের ভাড়াটিয়া পিংকির সাথে তাঁর তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শত্রুতা তৈরি হয়। ওই বিরোধের জের ধরে গত তিনদিন ধরে তাকে একটি ঘরে জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছিল। শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্তরা তাকে পুনরায় লাঠি ও ভারী বস্তু দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে। পরবর্তীতে হামলাকারীরা কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখলে তিনি সুকৌশলে ৯৯৯-এ কল দিয়ে পুলিশের সাহায্য চান।
যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আমানুল্লাহ আমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে বার্তা পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়। তালাবদ্ধ ঘর থেকে আহত নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।
kalprakash.com/IM