শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ | ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২৩ সফর, ১৪৪৮ | ভোর ৪:৪০:৩২

কোরআন-হাদিসে জান্নাতিদের অভ্যর্থনা ও জান্নাত লাভের আমল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪০
শেয়ার: mail
কোরআন-হাদিসে জান্নাতিদের অভ্যর্থনা ও জান্নাত লাভের আমল

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

জান্নাত মুমিনের জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা ও সবচেয়ে মূল্যবান প্রাপ্তি। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার মুমিনদের এমন জীবন গড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা তাদের জান্নাতের পথে পরিচালিত করবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নেক বান্দাদের জন্য এমন সব নিয়ামত প্রস্তুত করে রেখেছেন, যা কোনো মানুষ কখনো চোখে দেখেনি, কানে শোনেনি কিংবা কল্পনাও করতে পারেনি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, নেক বান্দাদের জন্য এমন সব নেয়ামত প্রস্তুত রয়েছে যা মানুষের কল্পনারও অতীত। এরপর তিনি সূরা সাজদার ১৭ নম্বর আয়াত তিলাওয়াতের নির্দেশ দেন, যেখানে জান্নাতিদের জন্য গোপন রাখা প্রশান্তিদায়ক পুরস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

জান্নাতিদের যেভাবে স্বাগত জানানো হবে

কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে জান্নাতে প্রবেশের সময় মুমিনদের সম্মানজনক অভ্যর্থনার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

প্রথমেই জান্নাতিদের শান্তি ও নিরাপত্তার বার্তা দিয়ে সালাম জানানো হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করো।” (সূরা হিজর: ৪৬)

জান্নাতের দরজায় উপস্থিত থাকবেন এর রক্ষীরা। তারা জান্নাতিদের উদ্দেশে বলবেন, “তোমাদের প্রতি শান্তি। তোমরা সুখী হও। স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করো।” (সূরা ঝুমার: ৭৩)

এছাড়া ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে এসে তাদের ধৈর্য, ঈমান ও নেক আমলের জন্য অভিনন্দন জানাবেন। আল্লাহ বলেন, “তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি শান্তি। কতই না উত্তম এই পরিণাম!” (সূরা রাআদ: ২৩-২৪)

আরও বলা হয়েছে, ফেরেশতারা জান্নাতিদের স্মরণ করিয়ে দেবেন—এটাই সেই প্রতিশ্রুত দিনের পুরস্কার, যা দুনিয়াতে তাদের দেওয়া হয়েছিল। (সূরা আম্বিয়া: ১০৩)

জান্নাতে প্রবেশের পর আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য উন্মুক্ত করবেন অফুরন্ত সুখ, শান্তি ও চিরস্থায়ী নেয়ামত। মুত্তাকিদের জন্য থাকবে প্রস্রবণময় উদ্যান এবং সীমাহীন অনুগ্রহ। (সূরা জারিয়াত: ১৫-১৬)

যেসব আমল জান্নাত লাভে সহায়ক

কোরআন ও হাদিসে জান্নাত লাভের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে অন্যতম হলো ইহসান বা আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করা এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখা। যারা রাতের শেষ প্রহরে ইবাদত ও ইস্তিগফারে ব্যস্ত থাকে, আল্লাহ তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। (সূরা জারিয়াত: ১৬-১৮)

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানোও জান্নাত লাভের অন্যতম শর্ত। (সূরা বনি ইসরাইল: ১৯)

একই সঙ্গে নেক কাজে প্রতিযোগিতা করা, ফরজ নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা, মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা, সালামের প্রচলন, অভাবীদের খাবার খাওয়ানো এবং রাতের তাহাজ্জুদ আদায় করার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে, তার জন্য তিনি জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। (সহিহ বুখারি: ৬৪৭৪)

জান্নাতই প্রকৃত সফলতা

মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, প্রকৃত সফল সেই ব্যক্তি, যাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। কারণ দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী ও প্রতারণাময় ভোগ-বিলাস ছাড়া আর কিছুই নয়। (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)

মুমিনের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং এমন আমল করা, যা তাকে জান্নাতের অধিবাসী হওয়ার সৌভাগ্য এনে দেবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নেক আমল করার তাওফিক দান করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward