বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬ | ২১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২১ সফর, ১৪৪৮ | রাত ৯:১৩:৫০

শক্তিশালী দূরবীনে ধরা পড়ল সূর্যের পৃষ্ঠের সবচেয়ে নিখুঁত ছবি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৭
শেয়ার: mail
শক্তিশালী দূরবীনে ধরা পড়ল সূর্যের পৃষ্ঠের সবচেয়ে নিখুঁত ছবি

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন মাইলফলক। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর দূরবীন ব্যবহার করে এবার একেবারে কাছ থেকে সূর্যের পৃষ্ঠের সবচেয়ে স্পষ্ট, নিখুঁত ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সংগৃহীত এই ছবিতে প্রথমবারের মতো সূর্যপৃষ্ঠে সৃষ্টি হওয়া অবিশ্বাস্য ঘূর্ণাবর্তের সূক্ষ্ম কার্যকলাপ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ভেসে উঠেছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, সূর্যের অভ্যন্তরীণ ভাগের প্রচণ্ড উত্তপ্ত প্লাজমা বা গ্যাসের অনবরত চলাচলের ফলে এর চৌম্বক ক্ষেত্র ক্রমাগত মোচড় খেতে থাকে এবং ঘুরতে থাকে। এই শক্তিশালী ঘূর্ণনের ফলে উৎপন্ন হওয়া শক্তিই সূর্য থেকে তীব্র বেগে নির্গত হয়ে সৃষ্টি করে ‘মহাকাশ আবহাওয়া’ (স্পেস ওয়েদার)।

এই মহাকাশ আবহাওয়া পৃথিবীর আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, কৃত্রিম উপগ্রহ, জিপিএস ও রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। পাশাপাশি মহাকাশে অবস্থানরত নভোচারীদের জন্যও এটি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির (এনএসও) বিজ্ঞানী ডেভিড ববোল্টজ বলেন, “সূর্যই আমাদের সৌরজগতের সমস্ত শক্তি ও ক্ষতিকর মহাকাশ আবহাওয়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাই সূর্যকে পরমাণু ও ক্ষুদ্রতম স্তর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে মহাকাশ আবহাওয়ার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে নির্ভুল আগাম পূর্বাভাস দেওয়া বহুগুণ সহজ হবে।”

হাওয়াইয়ের উচ্চতম পাহাড়ে ধুলাবালিমুক্ত আকাশের নিচে স্থাপিত ‘ড্যানিয়েল কে. ইনোউয়ে সোলার টেলিস্কোপ’-এর (DKIST) মাধ্যমে এই পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, সূর্যের পৃষ্ঠে উত্তপ্ত গ্যাসের স্তরগুলো ভিন্ন গতিতে একে অপরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সৃষ্টি করছে বিশেষ এক ভৌতিক প্রক্রিয়া, বৈজ্ঞানিক ভাষায় যাকে বলা হয় ‘কেলভিন-হেলমহোল্টজ ইনিস্ট্যাবিলিটি’ (Kelvin-Helmholtz instability)। এনএসও-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ড. ডেভিড কুরিডজে বিবিসিকে জানান, “এই গতিই সঞ্চিত হয়ে পরবর্তীতে ভয়াবহ সৌর বিস্ফোরণ বা ‘সোলার ফ্লেয়ার’-এর রূপ নেয়।”

বিজ্ঞানী ড. ফ্রেডরিখ ওয়েগার উল্লেখ করেন, এই আবিষ্কার কেবল মহাকাশ আবহাওয়ার সৃষ্টি রহস্যই উন্মোচন করবে না, বরং সূর্যের মূল পৃষ্ঠের চেয়ে এর বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় স্তর (করোনা) কেন এত অবিশ্বাস্য রকমের উত্তপ্ত— সেই বহু বছরের অমীমাংসিত প্রশ্নেরও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সরবরাহ করবে।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এই যৌথ গবেষণা থেকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র হিসেবে সূর্য কেবল শক্তির উৎসই নয়, বরং আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব থেকে শুরু করে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নিয়ম বোঝার জন্য মহাবিশ্বের সবচেয়ে সেরা গবেষণাগার। সূত্র: বিবিসি।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward