একই পদে ও একই চেয়ারে বসে আছেন দীর্ঘ ১২ বছর ধরে! তোয়াক্কা করছেন না কাউকেই। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)-এর কর্মকর্তা মো. মছলেউদ্দীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৩ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দীর্ঘদিন একই উপজেলায় কর্মরত থেকে তিনি তৈরি করেছেন নিজস্ব প্রভাববলয়। সামান্য বকেয়া টাকার জন্যও তিনি সাধারণ গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি পিডিবিএফ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। অথচ বাকি সামান্য টাকার জন্য তার নামে ২৯ হাজার টাকার মামলা দেওয়া হয়েছে। কেবল এই গ্রাহকই নন, এই কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক হয়রানির বিরুদ্ধে জলঢাকা উপজেলার অসংখ্য ভুক্তভোগীর ক্ষোভ ও অভিযোগ রয়েছে।
এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য বা বক্তব্য না দিয়ে উল্টো সংবাদকর্মীদের সাথে উগ্র আচরণ করেন এই কর্মকর্তা। নিজের মোবাইল ফোন বের করে সাংবাদিকদের কথোপকথন ভিডিও করতে থাকেন এবং অবিলম্বে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এছাড়া নিজের মোবাইল দিয়ে অফিসের বিভিন্ন কক্ষের চিত্র ধারণ করে সাংবাদিকরা তাকে বিরক্ত করছেন বলে এক ধরণের নাটकीय পরিবেশ তৈরি করেন।
জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌসী হ্যাপি এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, একই উপজেলায় একজন কর্মকর্তা ১২ বছর ধরে কীভাবে আছেন, সে বিষয়ে তিনি কেবল অবগত হলেন। পিডিবিএফ-এর নিয়োগ বা বদলি নীতিমালা সম্পর্কে তার বিস্তারিত জানা না থাকলেও সরকারি নিয়মে কোনো কর্মকর্তাকে একই অফিসে এতদিন রাখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
অভিযোগের বিষয়ে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) রংপুর বিভাগের উপপরিচালক মো. মাহবুবার রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন। তবে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় পরবর্তীতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
দীর্ঘ এক যুগ ধরে একই স্থানে শিকড় গেড়ে বসা এই বিতর্কিত কর্মকর্তার খুঁটির জোর কোথায়, তা নিয়েই এখন জলঢাকাবাসীর মাঝে প্রশ্ন উঠেছে।
kalprakash.com/IM