মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | রাত ১:২২:১৩

ওয়াই-ফাই কলিং: মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই কথা বলার নতুন উপায়

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৭
শেয়ার: mail
ওয়াই-ফাই কলিং: মোবাইল নেটওয়ার্ক ছাড়াই কথা বলার নতুন উপায়

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

বহুতল ভবনের নিচতলা বা বেজমেন্টে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলতে গিয়ে নেটওয়ার্ক হারিয়ে ফেলার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল দেয়াল, ছাদ বা ঘনবসতির কারণে দুর্বল হয়ে পড়লে কল কেটে যায় বা কথোপকথনে বিঘ্ন ঘটে। এই সমস্যার কার্যকর সমাধান হিসেবে এসেছে ওয়াই-ফাই কলিং, যা প্রযুক্তিগতভাবে ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই (ভোওয়াই-ফাই) নামে পরিচিত।

সাধারণ ফোন কল মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমে অপারেটরের নেটওয়ার্কে পৌঁছায়। তবে ওয়াই-ফাই কলিংয়ের ক্ষেত্রে কলটি টাওয়ারের পরিবর্তে বাসা, অফিস বা অন্য যেকোনো ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করে সরাসরি অপারেটরের নেটওয়ার্কে পৌঁছে যায়। প্রযুক্তিগতভাবে এটি ভোএলটিইর মতো একই আইএমএস (আইপি মাল্টিমিডিয়া সাবসিস্টেম) কাঠামো ব্যবহার করে কলকে ডেটা প্যাকেটে রূপান্তর করে প্রেরণ করে। ফলে ব্যবহারকারীর কাছে এটি সাধারণ ফোন কলের মতোই মনে হয় এবং কোনো অতিরিক্ত অ্যাপের প্রয়োজন হয় না।

মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হলেও যেখানে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে, সেখানে ওয়াই-ফাই কলিং বিশেষভাবে কার্যকর। উঁচু ভবনের ওপরের তলা, বেজমেন্ট কিংবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে, যেখানে মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল দুর্বল, সেখানে এই সেবা ভালোভাবে কাজ করে। ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ওয়াই-ফাইয়ের মধ্যে সংযোগ পরিবর্তন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে কলরেটও সাধারণ মোবাইল কলের মতোই থাকে এবং অতিরিক্ত কোনো চার্জ দিতে হয় না।

তবে সব ফোনে এই সুবিধা পাওয়া যায় না। ওয়াই-ফাই কলিং ব্যবহার করতে হলে ফোনে ভোএলটিই সমর্থন থাকতে হবে এবং নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে ভোওয়াই-ফাই ফিচার সক্রিয় থাকতে হবে। পাশাপাশি অপারেটরের নির্ধারিত কিছু ইন্টারনেট সেবাদাতার (আইএসপি) সংযোগের মাধ্যমেই এই সেবা ব্যবহার করা যায়।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) শর্তসাপেক্ষে এই সেবার অনুমোদন দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কলের তথ্য, ডিভাইসের অবস্থান, আইপি ঠিকানা ও ম্যাক অ্যাড্রেস সংরক্ষণ করতে হয়। ভিপিএন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে হোয়াইটলিস্ট নীতিমালা অনুসরণ করতে হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক রোমিং বা এয়ারপ্লেন মোডে এই সেবা ব্যবহার করা যায় না।

বাংলাদেশে যেসব অপারেটর ওয়াই-ফাই কলিং সেবা দিচ্ছে

বাংলাদেশে প্রথম ওয়াই-ফাই কলিং চালু করে বাংলালিংক। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় পরীক্ষামূলকভাবে সেবা চালুর পর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এটি দেশব্যাপী বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হয়।

গ্রামীণফোনও ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ভোওয়াই-ফাই সেবা চালু করে, যা বর্তমানে শুধু ভোএলটিই ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত।

দুই অপারেটরই অতিরিক্ত কোনো ফি ছাড়াই নিয়মিত কলরেটে এই সেবা দিচ্ছে।

বাংলালিংকের সমর্থিত আইএসপি:

  • লিংক৩
  • আইসিসি
  • কার্নিভাল
  • পেসনেট
  • ক্লাউডওয়ান (টেকনোকোর)
  • অগ্নি
  • মেট্রোনেটসহ দেড় শতাধিক আইএসপি

গ্রামীণফোনের সমর্থিত আইএসপি:

  • ব্র্যাকনেট
  • কার্নিভাল ইন্টারনেট
  • চিটাগং অনলাইন লিমিটেড
  • মাইম-ইন্টারনেট

রবি ও টেলিটক এখনো বাণিজ্যিকভাবে ওয়াই-ফাই কলিং সেবা চালু করেনি। এ বিষয়ে গ্রাহকদের আগ্রহ থাকলেও অপারেটর দুটি এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে যেভাবে চালু করবেন

১. ফোনের সেটিংস-এ যান।
২. নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইন্টারনেট বা কানেকশনস-এ প্রবেশ করুন।
৩. মোবাইল নেটওয়ার্ক নির্বাচন করে ওয়াই-ফাই কলিং অপশনে যান।
৪. ওয়াই-ফাই কলিং চালু করুন।

দ্রষ্টব্য: ফোনের ব্র্যান্ড বা মডেলভেদে অপশনটি কল সেটিংস অথবা সিম কার্ড অ্যান্ড মোবাইল নেটওয়ার্ক মেনুতেও থাকতে পারে।

আইফোনে যেভাবে চালু করবেন

১. সেটিংস অ্যাপে যান।
২. ফোন অপশনে ট্যাপ করুন।
৩. ওয়াই-ফাই কলিং নির্বাচন করুন।
৪. ওয়াই-ফাই কলিং অন দিস আইফোন অপশনটি চালু করুন।
৫. এনাবল-এ ট্যাপ করুন এবং প্রয়োজন হলে জরুরি সেবার জন্য ঠিকানা প্রদান করুন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward