শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জুড়ে ১৩ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। শিশুদের জন্য বয়সভিত্তিক ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ করার পর বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভন ডার লিয়েন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে বয়সভিত্তিক সীমাবদ্ধতা প্রয়োজন। তিনি প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষতিকর অ্যালগরিদম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি শুধু শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ আছে কি না, তা নয়; বরং কখন এবং কীভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম শিশুদের কাছে পৌঁছাচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, আগামী শরতের মধ্যে এ বিষয়ে একটি খসড়া আইন তৈরি করা হবে। তবে সর্বনিম্ন বয়সসীমা কত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের বয়সভিত্তিক ধাপে ধাপে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুপারিশকে তিনি যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন।
জার্মান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ইয়োর্গ ফেগার্ট এবং ফরাসি মহামারি বিশেষজ্ঞ মারিয়া মেলচিওরের নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, ভিডিও গেম ও এআই চ্যাটবটের মতো ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রেও ইইউজুড়ে বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।
এরই মধ্যে ইইউর অন্তত ১০টি দেশ শিশুদের জন্য এ ধরনের নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা জানিয়েছে। ফ্রান্স ১৫ বছর এবং স্পেন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। গ্রিসে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য এ নিয়ম কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এস্তোনিয়া এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বলেছে, শিশুরা বিকল্প উপায়ে তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। বরং প্ল্যাটফর্মগুলোর নকশা ও ব্যবস্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো উচিত।
অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ভন ডার লিয়েন বলেন, শিশুদের নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া যায় না। যেমন গাড়িতে শিশুরা নিজেরা সিটবেল্ট তৈরি করে না কিংবা বাবা-মাকে বাড়িতে এয়ারব্যাগ বসাতে হয় না। তেমনি ডিজিটাল ব্যবস্থাকেই নিরাপদ করতে হবে।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশন মেটা ও টিকটকের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মের আসক্তিকর বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে ইনফিনিট স্ক্রল, ভিডিও অটো-প্লে এবং পুশ নোটিফিকেশনের মতো ফিচার শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে মেটা ও টিকটক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
kalprakash.com/IM