মানিকগঞ্জে এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী, পরিব্রাজক, লেখক ও চিকিৎসক ডা. বাবর আলীকে সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর অভিযাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রাণবন্ত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা এলাকার আরব ভবন মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মানিকগঞ্জের ভ্রমণপিপাসু ও প্রকৃতিপ্রেমী মো. আজহার উদ্দিনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে ডা. বাবর আলী তাঁর দীর্ঘ অভিযাত্রার অভিজ্ঞতা, পর্বতারোহণের চ্যালেঞ্জ, মানসিক দৃঢ়তা, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং তরুণদের স্বপ্নপূরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য উপস্থিত ভ্রমণপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অনুপ্রাণিত করে।
আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর ও উন্মুক্ত মতবিনিময় পর্বে অংশ নেন অ্যাডভোকেট দীপক কুমার ঘোষ, অহিদুর রহমান, আবু মো. নাহিদ, বিমল চন্দ্র রায়, সাংবাদিক গাজী ওয়াজেদ আলম লাবু, মো. আফজাল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মানিকগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে ডা. বাবর আলীর হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
ডা. বাবর আলী বাংলাদেশের অন্যতম কৃতী পর্বতারোহী। তিনি বিশ্বের ৮ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বতের মধ্যে পাঁচটিতে সফলভাবে আরোহণ করেছেন। ২০২৪ সালের ১৯ মে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে তিনি বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮,৮৪৮.৮৬ মিটার) জয় করেন এবং ষষ্ঠ বাংলাদেশি হিসেবে এ গৌরব অর্জন করেন।
এর আগে ২০২২ সালে তিনি আমা দাবলাম শৃঙ্গ জয় করে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন। ৬,৮১২ মিটার উচ্চতার এ শৃঙ্গটি বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তিনির্ভর ও কঠিন পর্বতারোহণের জন্য পরিচিত।
পর্বতারোহণের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডেও ডা. বাবর আলীর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ২০১৯ সালে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে তিনি দেশের ৬৪টি জেলা পায়ে হেঁটে ভ্রমণ করেন। মাত্র ৬৪ দিনে তিনি ২ হাজার ৭০১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন।
সাইকেল ভ্রমণেও তাঁর রয়েছে অসাধারণ সাফল্য। তিনি টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, হালুয়াঘাট থেকে কুয়াকাটা, সুন্দরবন, ভোমরা ও তামাবিল পর্যন্ত সাইকেলে ভ্রমণ করেছেন। এছাড়া ভারতের কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দুর্গম পথ সাইকেলে অতিক্রম করেছেন।
অভিযাত্রার অভিজ্ঞতা তিনি ‘পায়ে পায়ে ৬৪ জেলা’, ‘ম্যালরি ও এভারেস্ট’ এবং ‘সাইকেলের সওয়ারি’ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য পথচলার অভিজ্ঞতা নিয়মিত লিপিবদ্ধ করে তিনি নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণামূলক দলিল রেখে গেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডা. বাবর আলীর জীবনসংগ্রাম, অধ্যবসায়, সাহস ও প্রকৃতিপ্রেম বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করবে।
kalprakash.com/IM