জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানার এমন অবহেলার অভিযোগ নিয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছিল।
জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ১৬ জুলাই উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা ও পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং জুলাই যোদ্ধাসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এ আয়োজন করায় তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কয়েকজন ছাত্রদল নেতা ও জুলাই যোদ্ধার অভিযোগ, জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের কাউকেই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তাদের দাবি, যাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মরণে এই আয়োজন, সেই জুলাই যোদ্ধারাই যদি উপস্থিত না থাকেন, তাহলে এ ধরনের আলোচনা সভার উদ্দেশ্য কী? তাদের দাবি, অনুষ্ঠানে একজনও প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টিকে তারা জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি অবহেলা ও অপমান হিসেবে দেখছেন।
এদিকে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মরণে এই আয়োজন, সেই জুলাই যোদ্ধারাই কেন আমন্ত্রণের বাইরে থাকলেন? এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি কি অবহেলা, নাকি পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা? এর দায়ভার কার—আয়োজক কমিটির, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের, নাকি অন্য কারও? এটি কি প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি, নাকি অন্য কোনো কারণে এমনটি ঘটেছে—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং হস্তক্ষেপের দাবিতে আগামী রোববার সরিষাবাড়ীতে ছাত্রনেতা ও জুলাই যোদ্ধাদের উদ্যোগে মানববন্ধনের প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সকলকে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের আগের দিন এ বিষয়ে সভাও করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুক্রবার দুপুর ২টা ৩১ মিনিটে জামালপুর জেলা প্রশাসকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার এ প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমরা দেখব। কেন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে, সেটি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
kalprakash.com/IM
সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি 






















