বাংলাদেশ ১০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ১১৭ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি প্রদান Logo সুন্দরগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত Logo নবীনদের পদচারণায় মুখরিত বেরোবি ক্যাম্পাস Logo রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুভ্রা রানী চন্দ আর নেই Logo নালিতাবাড়ীতে রথযাত্রা উপলক্ষে ধর্মীয় প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত Logo অর্থের অভাবে চীনের মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত, সহযোগিতা চায় বাগাতিপাড়ার মেধাবী ফাতেমা Logo ছেলের শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশগ্রহণের জেরে বগুড়ায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার Logo ঠাকুরগাঁওয়ে পাট কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু Logo ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবাসহ বিকাশ ঘোষ নামের ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার Logo ওয়ার্ল্ড ভিশন রিয়্যাক্টস ইন প্রকল্পের আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ে সুবিধাভোগী পরিবারের মাঝে হাঁস বিতরণ

বিদেশে চিকিৎসায় বছরে দেশ থেকে চলে যাচ্ছে ৫ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করতে চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি রোগীদের প্রতি সহমর্মী আচরণ অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢামেক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশ থেকে বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এর ফলে প্রতি বছর চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশের মানুষের চিকিৎসা আমরা কেন দেশে করাতে পারব না? আমরা কেন মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারব না? এটি আইন প্রয়োগ করে সম্ভব নয়। কেবল চিকিৎসকরাই তাদের মানবিক আচরণ ও সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তাই রোগীদের আস্থা অর্জনে চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যাতে শুরুতেই স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরামর্শ পায়, সে লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ হবেন নারী স্বাস্থ্যকর্মী, যারা পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।

তিনি বলেন, একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল দিয়ে গড়ে ওঠে না। পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, স্বাস্থ্য পরামর্শ, নিরাপদ খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং দায়িত্বশীল জীবনাচরণের ওপরও শারীরিক সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম—এই নীতিতে সরকার সবার দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আগেভাগে স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ পেলে রোগের চিকিৎসা সহজ হয়। সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।

তিনি বলেন, শিক্ষাখাতের পর দেশের ইতিহাসে এবারই স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এটি জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শুধু বাজেট বৃদ্ধি নয়, চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যয়ও কমানো হয়েছে। ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে বর্তমানে থাকা ৩১ থেকে ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলো পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি সব হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশুস্বাস্থ্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিশু চিকিৎসা রাজধানীকেন্দ্রিক না থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজলভ্য হবে।

মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বিজ্ঞানসম্মত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সবাইকে হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং সঠিকভাবে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মানুষের বিপদের প্রকৃত বন্ধু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের পরামর্শ ও আন্তরিক আচরণ একজন রোগীর কাছে ওষুধের মতো কার্যকর। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলিও একজন চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা মেডিকেল কলেজকে জীবন্ত ইতিহাস ও কালের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি আন্দোলনে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান শুধু দক্ষ চিকিৎসকই নয়, শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও মুক্তিযোদ্ধাসহ এমন বহু মানুষ গড়ে তুলেছে, যারা মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করেননি।

শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিলন চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন। এ সময় শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজকে বিশ্বমানের আধুনিক গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস

kalprakash.com/IM

জনপ্রিয় সংবাদ

কুবিতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ১১৭ শিক্ষার্থীকে মেধাবৃত্তি প্রদান

বিদেশে চিকিৎসায় বছরে দেশ থেকে চলে যাচ্ছে ৫ বিলিয়ন ডলার: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৬:১৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোগীদের প্রতি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবা খাতকে শক্তিশালী করতে চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং সর্বোপরি রোগীদের প্রতি সহমর্মী আচরণ অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢামেক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশ থেকে বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। এর ফলে প্রতি বছর চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৫ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। দেশের মানুষের চিকিৎসা আমরা কেন দেশে করাতে পারব না? আমরা কেন মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারব না? এটি আইন প্রয়োগ করে সম্ভব নয়। কেবল চিকিৎসকরাই তাদের মানবিক আচরণ ও সঠিক চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তাই রোগীদের আস্থা অর্জনে চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যাতে শুরুতেই স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরামর্শ পায়, সে লক্ষ্যে সরকার সারা দেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ হবেন নারী স্বাস্থ্যকর্মী, যারা পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।

তিনি বলেন, একটি সুস্থ জাতি শুধু হাসপাতাল দিয়ে গড়ে ওঠে না। পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, স্বাস্থ্য পরামর্শ, নিরাপদ খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং দায়িত্বশীল জীবনাচরণের ওপরও শারীরিক সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম—এই নীতিতে সরকার সবার দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আগেভাগে স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ পেলে রোগের চিকিৎসা সহজ হয়। সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব।

তিনি বলেন, শিক্ষাখাতের পর দেশের ইতিহাসে এবারই স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এটি জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, শুধু বাজেট বৃদ্ধি নয়, চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যয়ও কমানো হয়েছে। ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে বর্তমানে থাকা ৩১ থেকে ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলো পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি সব হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশুস্বাস্থ্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে শিশু চিকিৎসা রাজধানীকেন্দ্রিক না থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজলভ্য হবে।

মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বিজ্ঞানসম্মত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সবাইকে হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং সঠিকভাবে মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকদের মানুষের বিপদের প্রকৃত বন্ধু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন চিকিৎসকের পরামর্শ ও আন্তরিক আচরণ একজন রোগীর কাছে ওষুধের মতো কার্যকর। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলিও একজন চিকিৎসকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা মেডিকেল কলেজকে জীবন্ত ইতিহাস ও কালের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি আন্দোলনে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান শুধু দক্ষ চিকিৎসকই নয়, শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও মুক্তিযোদ্ধাসহ এমন বহু মানুষ গড়ে তুলেছে, যারা মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করেননি।

শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিলন চত্বরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন। এ সময় শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজকে বিশ্বমানের আধুনিক গবেষণা, শিক্ষা ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তরের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস

kalprakash.com/IM