বাংলাদেশ ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo নিজ জেলায় মহানগর পুলিশে আর দায়িত্ব নয়, শতাধিক সদস্যের বদলির সিদ্ধান্ত Logo নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা Logo চাটমোহরে মোটরসাইকেলের বিকট শব্দে সাইলেন্সারে অতিষ্ঠ জনজীবন Logo মাটিরাঙ্গা জোনের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী মানবিক সহায়তা কর্মসূচি Logo রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ছাত্রলীগ–যুবলীগসহ গ্রেপ্তার ৫ Logo জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্যোগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত Logo সিএমপির সাইবার সাপোর্ট অ্যান্ড রেসপন্স সেন্টারের উদ্বোধন Logo শর্ত পূরণ করলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে সবাই: জাহেদ উর রহমান Logo চিতলমারীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার Logo ভেজাল দুধ ব্যবসায়ী মমিনের ফাঁসির দাবিতে চাটমোহরে মানববন্ধন

ডাক্তার-এমআরওর লোভে সর্বস্বান্ত রোগী

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা পোশাককর্মী আছিয়া খাতুন (৩৫) দাঁড়িয়েছিলেন দীর্ঘ লাইনে। চিকিৎসা শেষে বাইরে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেনা এক ব্যক্তি তার প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে নেন। কয়েক দিন পর রিপোর্ট নিয়ে ফের চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি দেখতে পান, টেবিলে একটি নির্দিষ্ট ওষুধ কোম্পানির প্রচারসামগ্রী রাখা আছে।

এরপর ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ কিনতে গিয়ে আছিয়া বুঝতে পারেন, তাকে দামি অ্যান্টিবায়োটিক ও একাধিক ভিটামিন দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরে থাকা সেই কোম্পানির প্রচার কার্যক্রমের মিল রয়েছে। সব মিলিয়ে তার চিকিৎসা ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজার টাকা—যা তার এক মাসের বেতনের সমান।

আছিয়ার মতো অসংখ্য রোগীর অভিযোগ, চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক ধরনের অদৃশ্য চাপ কাজ করছে, যেখানে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের প্রভাব, চিকিৎসকদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অপ্রয়োজনীয় টেস্ট ও ওষুধ প্রেসক্রিপশন রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের সংসার চালানোই কষ্ট, চিকিৎসার জন্য ধার করতে হয়েছে। ডাক্তার যা লিখেছেন, তা না মানার উপায় নেই। কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা নয়, বোঝার সুযোগও আমাদের নেই।

স্বাস্থ্য খাতে সমন্বিত অনিয়মের অভিযোগ

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ওষুধ কোম্পানির একটি অংশের মধ্যে সমন্বয়ের কারণে রোগীরা বারবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে কমিশনের প্রলোভনে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা এমনকি সার্জারির সুপারিশও করা হচ্ছে।

এতে একেকটি প্রেসক্রিপশন অনেক পরিবারের মাসিক আয়, সন্তানের শিক্ষা খরচ কিংবা জরুরি সঞ্চয় শেষ করে দিচ্ছে।

সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়ন দুর্বল

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছর সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের (এমআর) প্রবেশ ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে পরিপত্র জারি করে। এতে প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা নিষিদ্ধ, নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাৎ, এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোম্পানির প্রভাব কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তবে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা যায়, নির্দেশনার বাস্তবায়ন খুবই সীমিত। ঢাকার বড় সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও এমআরদের উপস্থিতি নিয়মিত। অনেক ক্ষেত্রে তারা আইডি লুকিয়ে, মাস্ক পরে বা কৌশলে হাসপাতালে প্রবেশ করছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে একবার ৬০ জনকে আটক করা হলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক সময় এমআরদের সঙ্গে চিকিৎসকদের স্বার্থ-সম্পর্ক তৈরি হয়, যা ওষুধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। এটি এখন ওপেন সিক্রেট।

দেশের বিভিন্ন স্থানে একই চিত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভোলা, রাজশাহী, জয়পুরহাট ও বান্দরবানের বিভিন্ন হাসপাতালে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। কোথাও নির্ধারিত সময় মানা হচ্ছে না, কোথাও প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও সরাসরি চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করছে প্রতিনিধিরা।

রোগীরা অভিযোগ করছেন, ডাক্তার দেখানোর চেয়ে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে সমস্যা কাঠামোগত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধ কোম্পানির আগ্রাসী বিপণন কৌশল, অনিয়ন্ত্রিত মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্যবস্থা এবং দুর্বল নজরদারির কারণে পুরো চিকিৎসা খাতে একটি বাণিজ্যিক চাপ তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, অনেক কোম্পানি গিফট, নগদ সুবিধা বা বিদেশ সফরের প্রলোভনের মাধ্যমে বিক্রয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নষ্ট করছে।

করণীয় ও সুপারিশ

স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের সঙ্গে সরাসরি কোম্পানি প্রতিনিধির যোগাযোগ বন্ধ করে ই-মেইল বা প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নাম বাধ্যতামূলক, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, এবং ওষুধের দাম ও পরীক্ষার ফি নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি হাসপাতালে সিসিটিভি, ডিজিটাল এন্ট্রি সিস্টেম, নিয়মিত মনিটরিং এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবস্থান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, রোগীর প্রেসক্রিপশন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য এবং অনুমতি ছাড়া এর ছবি তোলা আইনত অনুচিত। এ ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রোগীর গোপনীয়তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

সূত্রঃ অনলাইন

kalprakash.com/SAS

সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
ডাক্তার-এমআরওর লোভে সর্বস্বান্ত রোগী
জনপ্রিয় সংবাদ

নিজ জেলায় মহানগর পুলিশে আর দায়িত্ব নয়, শতাধিক সদস্যের বদলির সিদ্ধান্ত

ডাক্তার-এমআরওর লোভে সর্বস্বান্ত রোগী

প্রকাশিত: ১২:০৫:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা পোশাককর্মী আছিয়া খাতুন (৩৫) দাঁড়িয়েছিলেন দীর্ঘ লাইনে। চিকিৎসা শেষে বাইরে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেনা এক ব্যক্তি তার প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলে নেন। কয়েক দিন পর রিপোর্ট নিয়ে ফের চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি দেখতে পান, টেবিলে একটি নির্দিষ্ট ওষুধ কোম্পানির প্রচারসামগ্রী রাখা আছে।

এরপর ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ কিনতে গিয়ে আছিয়া বুঝতে পারেন, তাকে দামি অ্যান্টিবায়োটিক ও একাধিক ভিটামিন দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে হাসপাতালের ভেতরে থাকা সেই কোম্পানির প্রচার কার্যক্রমের মিল রয়েছে। সব মিলিয়ে তার চিকিৎসা ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজার টাকা—যা তার এক মাসের বেতনের সমান।

আছিয়ার মতো অসংখ্য রোগীর অভিযোগ, চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক ধরনের অদৃশ্য চাপ কাজ করছে, যেখানে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের প্রভাব, চিকিৎসকদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অপ্রয়োজনীয় টেস্ট ও ওষুধ প্রেসক্রিপশন রোগীদের অতিরিক্ত ব্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের সংসার চালানোই কষ্ট, চিকিৎসার জন্য ধার করতে হয়েছে। ডাক্তার যা লিখেছেন, তা না মানার উপায় নেই। কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা নয়, বোঝার সুযোগও আমাদের নেই।

স্বাস্থ্য খাতে সমন্বিত অনিয়মের অভিযোগ

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ওষুধ কোম্পানির একটি অংশের মধ্যে সমন্বয়ের কারণে রোগীরা বারবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে কমিশনের প্রলোভনে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা এমনকি সার্জারির সুপারিশও করা হচ্ছে।

এতে একেকটি প্রেসক্রিপশন অনেক পরিবারের মাসিক আয়, সন্তানের শিক্ষা খরচ কিংবা জরুরি সঞ্চয় শেষ করে দিচ্ছে।

সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়ন দুর্বল

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত বছর সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভদের (এমআর) প্রবেশ ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে পরিপত্র জারি করে। এতে প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা নিষিদ্ধ, নির্ধারিত সময়ে সাক্ষাৎ, এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোম্পানির প্রভাব কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তবে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা যায়, নির্দেশনার বাস্তবায়ন খুবই সীমিত। ঢাকার বড় সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও এমআরদের উপস্থিতি নিয়মিত। অনেক ক্ষেত্রে তারা আইডি লুকিয়ে, মাস্ক পরে বা কৌশলে হাসপাতালে প্রবেশ করছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে একবার ৬০ জনকে আটক করা হলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক সময় এমআরদের সঙ্গে চিকিৎসকদের স্বার্থ-সম্পর্ক তৈরি হয়, যা ওষুধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। এটি এখন ওপেন সিক্রেট।

দেশের বিভিন্ন স্থানে একই চিত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ভোলা, রাজশাহী, জয়পুরহাট ও বান্দরবানের বিভিন্ন হাসপাতালে একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। কোথাও নির্ধারিত সময় মানা হচ্ছে না, কোথাও প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও সরাসরি চিকিৎসকের কক্ষে প্রবেশ করছে প্রতিনিধিরা।

রোগীরা অভিযোগ করছেন, ডাক্তার দেখানোর চেয়ে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে সমস্যা কাঠামোগত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধ কোম্পানির আগ্রাসী বিপণন কৌশল, অনিয়ন্ত্রিত মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ব্যবস্থা এবং দুর্বল নজরদারির কারণে পুরো চিকিৎসা খাতে একটি বাণিজ্যিক চাপ তৈরি হয়েছে।

তাদের মতে, অনেক কোম্পানি গিফট, নগদ সুবিধা বা বিদেশ সফরের প্রলোভনের মাধ্যমে বিক্রয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নষ্ট করছে।

করণীয় ও সুপারিশ

স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের সঙ্গে সরাসরি কোম্পানি প্রতিনিধির যোগাযোগ বন্ধ করে ই-মেইল বা প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নাম বাধ্যতামূলক, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, এবং ওষুধের দাম ও পরীক্ষার ফি নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি হাসপাতালে সিসিটিভি, ডিজিটাল এন্ট্রি সিস্টেম, নিয়মিত মনিটরিং এবং অভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবস্থান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, রোগীর প্রেসক্রিপশন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য এবং অনুমতি ছাড়া এর ছবি তোলা আইনত অনুচিত। এ ধরনের অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রোগীর গোপনীয়তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

সূত্রঃ অনলাইন

kalprakash.com/SAS

সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
ডাক্তার-এমআরওর লোভে সর্বস্বান্ত রোগী