বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার উত্তর নালুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. লুৎফর তালুকদার (৬০) একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর বসতঘর ও দীর্ঘদিনের সঞ্চয় হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপনের মুখোমুখি হয়েছেন। জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ভ্যান চালানো ও গরু পালন করে সংসার চালানো এই অসহায় মানুষটি এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা গেছে, লুৎফর তালুকদারের পরিবারে এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং ছোট মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি একটি গরু বিক্রি করে এক লাখ ১৮ হাজার টাকা পান। প্রয়োজনীয় খরচ বাবদ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয় করার পর অবশিষ্ট ৭৫ হাজার টাকা তিনি ঘরের একটি টিনের ট্রাঙ্কে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে সেই পুরো অর্থসহ ঘরের প্রায় সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, আগুনে তাদের প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘরের মধ্যে একটি লাইটের ব্যাটারি চার্জে দেওয়া ছিল। হঠাৎ ব্যাটারিটি বিস্ফোরিত হলে মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা প্রাণ নিয়ে বের হতে পারলেও ঘরের মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
এমন দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন চিতলমারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সমাজসেবক পলাশ রহমান। আজ ৭ জুন ২০২৬, সকাল ১০টায় তিনি তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে লুৎফর তালুকদারের বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন।
এ সময় তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে দুই বস্তা চাল, দুটি শাড়ি, দুটি লুঙ্গি, ২০ কেজি আলু, পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন।
পরিদর্শনকালে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্দশা দেখে পলাশ রহমান গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি সবসময় এই পরিবারের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, পলাশ রহমান দীর্ঘদিন ধরেই সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। কারও অসুস্থতা, অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা আর্থিক সংকটের খবর পেলেই তিনি দ্রুত সেখানে ছুটে যান। অনেকেই তাঁকে এলাকার ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমান প্রজন্মের একজন উদ্যমী ও মানবিক তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে পলাশ রহমান ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে তিনি মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। বিশেষ করে গরিব, দুঃখী ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত লুৎফর তালুকদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “সবকিছু হারিয়ে আমরা যখন দিশেহারা, তখন পলাশ রহমান আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এই সহযোগিতা আমাদের নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে।”
মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এমন উদ্যোগ সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
প্রিন্স মণ্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি 



















