কখনও কি হঠাৎ করে চকোলেট, চিপস বা ভাজাপোড়া খেতে খুব ইচ্ছে করে? অনেকেই এটাকে শুধু লোভ বা বদভ্যাস মনে করেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে—এ ধরনের আকাঙ্ক্ষা সবসময় সাধারণ ইচ্ছা নয়, বরং শরীরের ভেতরের একটি সংকেতও হতে পারে, যাকে বলা হয় ফুড ক্রেভিং।
চকোলেট, কেক বা মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শরীর দ্রুত শক্তির চাহিদা তৈরি করে, আর চিনি খুব দ্রুত শক্তি দেয় বলেই মিষ্টি খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।
অন্যদিকে ভাজাপোড়া বা নোনতা খাবারের প্রতি হঠাৎ ঝোঁক শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ হতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম, গরম আবহাওয়া বা পর্যাপ্ত পানি না পানের কারণে শরীরে লবণের ভারসাম্য নষ্ট হলে এমন আকাঙ্ক্ষা দেখা দিতে পারে।
হঠাৎ ভাত, রুটি বা নুডলসের মতো কার্বোহাইড্রেটজাত খাবার খেতে ইচ্ছে করাও শরীরের দ্রুত শক্তির চাহিদার সংকেত হতে পারে। মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা ক্লান্তির সময় মস্তিষ্ক এমন খাবারের দিকে ঝোঁকে যা দ্রুত এনার্জি দেয় এবং সাময়িক স্বস্তি আনে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বরফ, মাটি বা চক খাওয়ার মতো অস্বাভাবিক ইচ্ছা দেখা দিলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এটি অনেক সময় শরীরে আয়রনের তীব্র ঘাটতি বা অ্যানিমিয়ার লক্ষণ হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পিকা বলা হয়।
তাই বারবার একই ধরনের অস্বাভাবিক খাবারের আকাঙ্ক্ষা দেখা দিলে এটাকে শুধু লোভ না ভেবে শরীরের সংকেত হিসেবে দেখা উচিত। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, পানি পান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের ক্রেভিং কমে আসে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 

























