বাংলাদেশ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ধোঁয়ার আড়ালে ধূমপান বাড়াচ্ছে বাতের অসহনীয় যন্ত্রণা

সংগৃহীত ছবি

একসময় ধূমপানের ক্ষতি বলতে বোঝানো হতো ফুসফুসের রোগ, ক্যান্সার বা হৃদরোগের ঝুঁকি। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এর প্রভাব আরও গভীরে—হাড়, গাঁট ও চলাফেরার সক্ষমতাকেও ধীরে ধীরে নষ্ট করতে পারে ধূমপান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের ধূমপান শরীরে এমন এক প্রতিরোধব্যবস্থার গোলযোগ তৈরি করে, যা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (RA) নামের অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই রোগে শরীর নিজেরই জয়েন্ট ও টিস্যুকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করতে শুরু করে।

চিকিৎসা বিশ্লেষণে বলা হয়, ধূমপানের ক্ষতিকর রাসায়নিক ফুসফুসে প্রবেশের পর শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ফলে রক্তে ‘রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর’ ও ‘অ্যান্টি-সিসিপি’ নামের অ্যান্টিবডি তৈরি হতে থাকে, যা ধীরে ধীরে গাঁটে প্রদাহ সৃষ্টি করে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা শুরু হওয়ার বহু বছর আগেই এসব পরিবর্তন শরীরে নীরবে ঘটতে থাকে। ফলে রোগ অনেক দেরিতে ধরা পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যাদের পরিবারে বাত বা অটোইমিউন রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ধূমপান রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় তুলনামূলক কম বয়সেই জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা বা শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রোগের শুরুতে উপসর্গগুলো সাধারণ হওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না। চিকিৎসকদের মতে, কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি—ঘুম থেকে উঠে হাত-পা শক্ত হয়ে থাকা, একই সঙ্গে দুই পাশের গাঁটে ব্যথা, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা গরম অনুভূত হওয়া এবং দৈনন্দিন সাধারণ কাজেও অসুবিধা হওয়া।

ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ঘরের ভেতরে ধোঁয়ার কারণে শিশু ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাসিভ স্মোকিংয়ের শিকার ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ অবহেলা করলে তা ধীরে ধীরে গাঁট বিকৃতি, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণ হতে পারে। তবে ধূমপান ত্যাগ, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারে।

একটি সিগারেট হয়তো সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হতে পারে জীবনের স্থায়ী ব্যথা ও যন্ত্রণা।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ধোঁয়ার আড়ালে ধূমপান বাড়াচ্ছে বাতের অসহনীয় যন্ত্রণা

প্রকাশিত: ০৪:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

একসময় ধূমপানের ক্ষতি বলতে বোঝানো হতো ফুসফুসের রোগ, ক্যান্সার বা হৃদরোগের ঝুঁকি। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এর প্রভাব আরও গভীরে—হাড়, গাঁট ও চলাফেরার সক্ষমতাকেও ধীরে ধীরে নষ্ট করতে পারে ধূমপান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের ধূমপান শরীরে এমন এক প্রতিরোধব্যবস্থার গোলযোগ তৈরি করে, যা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (RA) নামের অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই রোগে শরীর নিজেরই জয়েন্ট ও টিস্যুকে শত্রু ভেবে আক্রমণ করতে শুরু করে।

চিকিৎসা বিশ্লেষণে বলা হয়, ধূমপানের ক্ষতিকর রাসায়নিক ফুসফুসে প্রবেশের পর শরীরে অস্বাভাবিক প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ফলে রক্তে ‘রিউমাটয়েড ফ্যাক্টর’ ও ‘অ্যান্টি-সিসিপি’ নামের অ্যান্টিবডি তৈরি হতে থাকে, যা ধীরে ধীরে গাঁটে প্রদাহ সৃষ্টি করে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা শুরু হওয়ার বহু বছর আগেই এসব পরিবর্তন শরীরে নীরবে ঘটতে থাকে। ফলে রোগ অনেক দেরিতে ধরা পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যাদের পরিবারে বাত বা অটোইমিউন রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ধূমপান রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় তুলনামূলক কম বয়সেই জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা বা শক্ত হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রোগের শুরুতে উপসর্গগুলো সাধারণ হওয়ায় অনেকেই গুরুত্ব দেন না। চিকিৎসকদের মতে, কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি—ঘুম থেকে উঠে হাত-পা শক্ত হয়ে থাকা, একই সঙ্গে দুই পাশের গাঁটে ব্যথা, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া বা গরম অনুভূত হওয়া এবং দৈনন্দিন সাধারণ কাজেও অসুবিধা হওয়া।

ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ঘরের ভেতরে ধোঁয়ার কারণে শিশু ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাসিভ স্মোকিংয়ের শিকার ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

চিকিৎসকদের মতে, এই রোগ অবহেলা করলে তা ধীরে ধীরে গাঁট বিকৃতি, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের কারণ হতে পারে। তবে ধূমপান ত্যাগ, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারে।

একটি সিগারেট হয়তো সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব হতে পারে জীবনের স্থায়ী ব্যথা ও যন্ত্রণা।

kalprakash.com/SS