বাংলাদেশ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

অতিরিক্ত খাওয়া ঠেকাতে কী করা উচিত? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

বর্তমানে বাড়ি, রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড দোকানগুলোতে খাবারের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে স্থূলতার হারও বাড়ছে। অনেক সময় মানুষ না বুঝেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খেয়ে ফেলে।

গবেষকদের মতে, বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশক থেকে রেস্তোরাঁয় বড় পরিমাণে খাবার পরিবেশনের প্রবণতা বেড়েছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অনেক প্রতিষ্ঠান বেশি খাবার দিয়ে গ্রাহক আকর্ষণ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের পরিমাণ যত বেশি হয়, মানুষ সাধারণত তত বেশি খায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পরিমাণ দ্বিগুণ হলে গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি খাওয়া হয়ে যায়।

তাদের মতে, অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের ক্ষুধার সংকেত বোঝা। অনেক সময় মানুষ না বুঝেই প্লেটে থাকা সব খাবার খেয়ে ফেলে, যদিও শরীরের আসলে এতটা প্রয়োজন থাকে না।

কীভাবে অতিরিক্ত খাওয়া কমানো যায়?

বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন—

১. পরিমাণ মেপে খাওয়া:
প্লেটে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার নিয়ে খাওয়া উচিত, যাতে অপ্রয়োজনে আবার খাবার নেওয়ার প্রবণতা কমে।

২. খাবার দূরে রাখা:
খাবার সামনে বা হাতের কাছে থাকলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই অতিরিক্ত খাবার সরিয়ে রাখা ভালো।

৩. ক্ষুধা সম্পর্কে সচেতন থাকা:
খাওয়ার সময় সত্যিকারের ক্ষুধা আছে কি না এবং পেট ভরেছে কি না—এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

৪. প্যাকেটজাত খাবারের লেবেল পড়া:
অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারে না কত ক্যালরি খাচ্ছে। লেবেলে দেওয়া পরিবেশনের পরিমাণ দেখে খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

৫. খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি:
দীর্ঘদিন বেশি খাবার দেখলে সেটাই স্বাভাবিক মনে হয়—একে বলা হয় ‘পোর্শন ডিস্টরশন’। এটি সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত খাওয়া ঠেকাতে কী করা উচিত? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

প্রকাশিত: ০৪:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

বর্তমানে বাড়ি, রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড দোকানগুলোতে খাবারের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে স্থূলতার হারও বাড়ছে। অনেক সময় মানুষ না বুঝেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খেয়ে ফেলে।

গবেষকদের মতে, বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশক থেকে রেস্তোরাঁয় বড় পরিমাণে খাবার পরিবেশনের প্রবণতা বেড়েছে। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অনেক প্রতিষ্ঠান বেশি খাবার দিয়ে গ্রাহক আকর্ষণ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের পরিমাণ যত বেশি হয়, মানুষ সাধারণত তত বেশি খায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পরিমাণ দ্বিগুণ হলে গড়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি খাওয়া হয়ে যায়।

তাদের মতে, অতিরিক্ত খাওয়া নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের ক্ষুধার সংকেত বোঝা। অনেক সময় মানুষ না বুঝেই প্লেটে থাকা সব খাবার খেয়ে ফেলে, যদিও শরীরের আসলে এতটা প্রয়োজন থাকে না।

কীভাবে অতিরিক্ত খাওয়া কমানো যায়?

বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন—

১. পরিমাণ মেপে খাওয়া:
প্লেটে নির্দিষ্ট পরিমাণ খাবার নিয়ে খাওয়া উচিত, যাতে অপ্রয়োজনে আবার খাবার নেওয়ার প্রবণতা কমে।

২. খাবার দূরে রাখা:
খাবার সামনে বা হাতের কাছে থাকলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই অতিরিক্ত খাবার সরিয়ে রাখা ভালো।

৩. ক্ষুধা সম্পর্কে সচেতন থাকা:
খাওয়ার সময় সত্যিকারের ক্ষুধা আছে কি না এবং পেট ভরেছে কি না—এ বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

৪. প্যাকেটজাত খাবারের লেবেল পড়া:
অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারে না কত ক্যালরি খাচ্ছে। লেবেলে দেওয়া পরিবেশনের পরিমাণ দেখে খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

৫. খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি:
দীর্ঘদিন বেশি খাবার দেখলে সেটাই স্বাভাবিক মনে হয়—একে বলা হয় ‘পোর্শন ডিস্টরশন’। এটি সম্পর্কে সচেতন থাকা দরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

kalprakash.com/SS