১১ নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ গ্রেপ্তারের প্রায় দেড় যুগ পরও তার চূড়ান্ত শাস্তি কার্যকর না হওয়ায় বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের পর চাঞ্চল্যকর এ বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। অভিযোগ উঠছে, তদন্ত, বিচার ও রায় কার্যকরের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে ভয়াবহ অপরাধের মামলাগুলো।
রসু খাঁ ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর টঙ্গী থেকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ১১ জন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে মোট ১০টি মামলা হয়, যার মধ্যে ৯টি হত্যা মামলা।
২০০৭ সাল থেকে তিনি একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালান বলে তদন্তে জানা যায়। বেশিরভাগ ভুক্তভোগী ছিলেন পোশাকশ্রমিক নারী, যাদের প্রেম ও বিয়ের প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে হত্যা করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালে চাঁদপুরের আদালত একটি হত্যা মামলায় রসু খাঁসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আপিলের পর ২০২৪ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্ট সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
তবে উচ্চ আদালতের রায় বহাল থাকলেও এখনো তার দণ্ড কার্যকর হয়নি। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি আছেন।
জানা গেছে, অন্যান্য মামলার কার্যক্রমও ধীরগতিতে চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় ভুক্তভোগীদের পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে— এত ভয়াবহ অপরাধের পরও কেন বিচার কার্যকর হতে এত দীর্ঘ সময় লাগে, এবং বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রিতা কীভাবে কমানো সম্ভব।
অনলাইন ডেস্ক 

























