বাংলাদেশ ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

তিন ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে নতুন পে-স্কেল, সুপারিশ চূড়ান্ত কাল

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো একবারে নয়, বরং তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে যুক্ত হবে বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার পুনর্গঠিত পে-স্কেল কমিটি এ সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতামত পর্যালোচনা করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে। এ জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং এরপরই শুরু হবে বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপে আবারও সমপরিমাণ সমন্বয় যোগ হবে।

তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা আপাতত আগের কাঠামোতেই থাকবে। এসব ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে একযোগে কার্যকর হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, একসঙ্গে সব সুবিধা চালু করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রাজস্ব পরিস্থিতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব Mahbub Ahmed বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধি করাই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। একই মত দিয়েছেন M Masrur Reaz। তার মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নতুন পে-স্কেল প্রয়োজনীয় হলেও ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত কৌশলী পদক্ষেপ।

নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।

এদিকে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর।

পেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। সাবেক সচিব Zakir Ahmed Khan–এর নেতৃত্বাধীন কমিশন পেনশন বৃদ্ধির হার শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

সুপারিশ অনুযায়ী—

  • মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে
  • ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে
  • ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে

আগামী অর্থবছরে এ খাতে কতটুকু সুবিধা কার্যকর হবে, তা এখন চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

kalprakash.com/SS
জনপ্রিয় সংবাদ

তিন ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে নতুন পে-স্কেল, সুপারিশ চূড়ান্ত কাল

প্রকাশিত: ১১:২৩:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো একবারে নয়, বরং তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং তৃতীয় ধাপে যুক্ত হবে বিভিন্ন ভাতা ও অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার পুনর্গঠিত পে-স্কেল কমিটি এ সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতামত পর্যালোচনা করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রথম ধাপ কার্যকর হতে পারে। এ জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং এরপরই শুরু হবে বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতে সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সমন্বিত বেতন পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপে আবারও সমপরিমাণ সমন্বয় যোগ হবে।

তবে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, ঝুঁকি ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা আপাতত আগের কাঠামোতেই থাকবে। এসব ভাতা ও অতিরিক্ত সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরে একযোগে কার্যকর হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, একসঙ্গে সব সুবিধা চালু করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই রাজস্ব পরিস্থিতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে।

সাবেক অর্থ সচিব Mahbub Ahmed বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধি করাই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। একই মত দিয়েছেন M Masrur Reaz। তার মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় নতুন পে-স্কেল প্রয়োজনীয় হলেও ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত কৌশলী পদক্ষেপ।

নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রশাসন ক্যাডার, শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসন, বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সমন্বিত নির্দেশনা থাকতে পারে।

এদিকে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর।

পেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। সাবেক সচিব Zakir Ahmed Khan–এর নেতৃত্বাধীন কমিশন পেনশন বৃদ্ধির হার শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

সুপারিশ অনুযায়ী—

  • মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে
  • ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে
  • ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে

আগামী অর্থবছরে এ খাতে কতটুকু সুবিধা কার্যকর হবে, তা এখন চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।

kalprakash.com/SS