উৎসব-পার্বণ, বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে জাল টাকার কারবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন হওয়ায় জাল নোট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট তৈরির অভিযোগে একাধিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা এ চক্রকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সূত্রগুলো বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও জাল নোট বিক্রির প্রচার চলছে, যেখানে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নকল নোট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাল টাকার উৎপাদন ও বিতরণ চক্র এখন আরও সংগঠিত হয়েছে এবং ঈদকে ঘিরে এ কার্যক্রম আরও বেড়ে যায়।
আসল নোট চেনার উপায়
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, লেনদেনের সময় কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করলে আসল নোট সহজে শনাক্ত করা যায়। এগুলো হলো—
- নোটের জলছাপ (Watermark) ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা
- নিরাপত্তা সুতা (Security Thread) আছে কি না তা দেখা
- আলোতে ধরলে রঙ পরিবর্তনশীল কালি (Color-shifting ink) পরিবর্তন হচ্ছে কি না যাচাই করা
- নোটের উঁচু-নিচু ছাপ (Intaglio printing) অনুভব করা
সতর্কতা ও পরামর্শ
- সন্দেহজনক নোট পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের সহায়তা নেওয়া
- পশুর হাটে থাকা ব্যাংকের অস্থায়ী বুথে নোট যাচাই করা
- অপরিচিত বা সন্দেহজনক উৎস থেকে বড় অঙ্কের লেনদেন এড়িয়ে চলা
- শুধু অনুমোদিত ব্যাংক বা নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে লেনদেন করা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জাল নোটের ঝুঁকি বাড়ে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আসল নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য ডেস্ক 

























