বাংলাদেশ ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৭ Logo অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান: শীর্ষ জুয়ারীসহ গ্রেফতার ১৫ Logo লামায় থামছেই না অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম, প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভ Logo রাস্তার পাশে ছোট্ট কুটিরে বৃদ্ধ দম্পতির মানবেতর জীবন Logo তেজগাঁও কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল Logo গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট Logo নবনিযুক্ত কুবি উপাচার্যকে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শুভেচ্ছা Logo নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষকদলের কমিটি গঠন, আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব সবুর Logo পাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম Logo স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, দম্পতির ওপর হামলা

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি: বাংলাদেশের উপর ১৩১টি শর্তের বোঝা, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৬টি অঙ্গীকার

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (এআরটি) ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে সই হওয়া এই চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হচ্ছে। ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে ‘বাংলাদেশ শ্যাল’ শব্দটি ১৩১ বার এবং ‘ইউএস শ্যাল’ মাত্র ৬ বার ব্যবহৃত হয়েছে, যা নিয়ে একতরফা চাপের অভিযোগ উঠেছে।

চুক্তিতে মূলত ছয়টি বড় ধারা রয়েছে, যেখানে শুল্কনীতি, অশুল্ক বাধা, মেধাস্বত্ব, ডিজিটাল বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব ধারায় বাংলাদেশের বাজার নীতি, আমদানি-রপ্তানি, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নিয়মকানুনে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমাতে হবে। কৃষিপণ্য, খাদ্য, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ ও ইউএসডিএ অনুমোদনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মানতে হবে এবং আলাদা অনুমোদন বা কড়াকড়ি কমাতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক কর বা বাধা না দেওয়ার বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।

মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় বাংলাদেশকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে চুক্তিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রম খাতে ইউনিয়ন গঠন সহজ করা, ইপিজেডে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং শ্রম আইন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার শর্ত রাখা হয়েছে। পরিবেশ, বন, মৎস্য এবং বন্যপ্রাণী সুরক্ষায়ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করা এবং পুঁজির প্রবাহ বাধামুক্ত করার বিষয়গুলো উল্লেখ আছে। ডিজিটাল খাতে ডেটা ট্রান্সফার সহজ করা, সাইবার নীতিমালা পরিবর্তন এবং কিছু ডিজিটাল নিয়ম শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে সীমিত অঙ্গীকার রয়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যে শুল্ক সুবিধা এবং সীমিত পরিসরে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার প্রবেশ সহজ করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তিটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ রয়েছে। কেউ একে বৈশ্বিক বাণিজ্যে সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে বাংলাদেশের নীতিগত স্বাধীনতার ওপর অতিরিক্ত চাপ হিসেবে সমালোচনা করছেন। চুক্তিতে যেকোনো পক্ষ ৬০ দিনের নোটিশে এটি বাতিল করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

kalprakash.com/SS

জনপ্রিয় সংবাদ

গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৭

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি: বাংলাদেশের উপর ১৩১টি শর্তের বোঝা, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৬টি অঙ্গীকার

প্রকাশিত: ১১:৩৪:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (এআরটি) ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে সই হওয়া এই চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হচ্ছে। ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে ‘বাংলাদেশ শ্যাল’ শব্দটি ১৩১ বার এবং ‘ইউএস শ্যাল’ মাত্র ৬ বার ব্যবহৃত হয়েছে, যা নিয়ে একতরফা চাপের অভিযোগ উঠেছে।

চুক্তিতে মূলত ছয়টি বড় ধারা রয়েছে, যেখানে শুল্কনীতি, অশুল্ক বাধা, মেধাস্বত্ব, ডিজিটাল বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব ধারায় বাংলাদেশের বাজার নীতি, আমদানি-রপ্তানি, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং নিয়মকানুনে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমাতে হবে। কৃষিপণ্য, খাদ্য, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ ও ইউএসডিএ অনুমোদনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মানতে হবে এবং আলাদা অনুমোদন বা কড়াকড়ি কমাতে হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক কর বা বাধা না দেওয়ার বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।

মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় বাংলাদেশকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে চুক্তিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রম খাতে ইউনিয়ন গঠন সহজ করা, ইপিজেডে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং শ্রম আইন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার শর্ত রাখা হয়েছে। পরিবেশ, বন, মৎস্য এবং বন্যপ্রাণী সুরক্ষায়ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করা এবং পুঁজির প্রবাহ বাধামুক্ত করার বিষয়গুলো উল্লেখ আছে। ডিজিটাল খাতে ডেটা ট্রান্সফার সহজ করা, সাইবার নীতিমালা পরিবর্তন এবং কিছু ডিজিটাল নিয়ম শিথিল করার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে সীমিত অঙ্গীকার রয়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যে শুল্ক সুবিধা এবং সীমিত পরিসরে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার প্রবেশ সহজ করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তিটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ রয়েছে। কেউ একে বৈশ্বিক বাণিজ্যে সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে বাংলাদেশের নীতিগত স্বাধীনতার ওপর অতিরিক্ত চাপ হিসেবে সমালোচনা করছেন। চুক্তিতে যেকোনো পক্ষ ৬০ দিনের নোটিশে এটি বাতিল করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

kalprakash.com/SS